আমাদের ভারত, ১০ নভেম্বর: ডিসেম্বরে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক হিংসা শুরু হতে পারে বলে পুলিশ প্রশাসনকে সর্তক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। নাম না করেই এর জন্য বিজেপিকেই বিঁধলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রানাঘাটে প্রশাসনিক সভায় পুলিশকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী ভয় পেয়ে ভুল বকছেন।
ডিসেম্বর মাসে ধামাকা ও অশান্তি লাগানোর চেষ্টা চলছে বলে দল এবং প্রশাসনকে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রানাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে কারো নাম না করলেও তার অভিযোগের তির ছিল বিজেপির দিকেই। তিনি বলেন, ওরা চক্রান্ত করছে ওদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে হবে। নাম না করলেও স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে তিনি বিজেপি এবং আরএসএসের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওরা কালো কালো পোশাক পরে ঘুরে বেড়ায়। জেলায় জেলায় ওদের সাম্প্রদায়িক সংগঠন রয়েছে। গোটা দেশে ওদের প্ল্যানিং আছে। তা ভেঙে দিতে হবে। যদি ছোট্ট কোন ঘটনাও ঘটে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। এখানেও এনআইএ ঢুকেছে। গোটা দেশ জুড়ে ওদের প্ল্যানিং আছে। এটা ভাঙতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি আরো অভিযোগ করেন, ভিআইপিদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে অস্ত্র ও নোট এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা চালান করা হচ্ছে। তারপরই তিনি নির্দেশ দেন ভিআইপিদের গাড়ির আড়ালে তাতে করে যেন অস্ত্র আমদানি না হয়। পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখুন স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারির চালান।
মমতা বলেন, কমিউনাল পকেট গুলো এখন থেকে দেখে রাখুন ডিসেম্বর থেকে ধামাকা মানে কমিউনাল যুদ্ধ লাগাবে। কর্ণাটকে অলরেডি লাগিয়েছে এটাই একমাত্র পথ। এটা বাঁচার পথ নয়। চৈতন্যদেবের জায়গায় দাঁড়িয়ে বলছি, এটা শান্তির পথ। জীবনটা শান্তির পথ। শান্তির আলো দেখার পথ। এটা মাথায় রাখতে হবে।
যদিও এই পাল্টা দিতে গিয়ে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেছেন, “ভয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারের মজ্জা পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিচ্ছে। ওনার এই নির্দেশে স্পষ্ট যে উনি যদি সুশাসন চালাতেন তাহলে ভয়ের কিছুই থাকত না। যেহেতু উনি পুরোটাই প্রশাসনের উপর নির্ভর করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চালাচ্ছেন ধীরে ধীরে কর্মীরা সরে যাচ্ছে মানুষের সরে যাচ্ছে। এখন একমাত্র সহায় সম্ভল হচ্ছে পুলিশ। সেই কারণে পুলিশকে দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা তিনি বলছেন। কুকর্ম করলে যেমন মানুষের মধ্যে ভয় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তেমনি দুঃস্বপ্ন আসতে শুরু করেছে। মনে হয় রাতেও না ঠিকঠাক ঘুম হচ্ছে না। সেইজন্য উনি এক এক সময় এক এক রকমের কথা বলে বেড়াচ্ছেন।

