আমাদের ভারত, ১৩ জুলাই: ধর্মতলা বা অন্য কোথাও লোক হবে না, তাই একুশে জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার কালীঘাটের বাড়িতেই পালন করুন। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোকে এইভাবেই কটাক্ষ করলেন সুকান্ত মজুমদার। একইসঙ্গে সীমান্তের মাদ্রাসা গুলির দেশ বিরোধী কার্যকলাপ নিয়েও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
রবিবার মধ্যমগ্রামে সুভাষ ময়দানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের শ্রমিক সংগঠনের একটি অনুষ্ঠান ছিল, সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। অনুষ্ঠান শেষে দ্বিধা বিভক্ত তৃণমূলের একুশে জুলাই উদযাপন সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরই তিনি বলেন, একুশে জুলাই শহিদ দিবসে তো লোক হবে না, ফলে ধর্মতলা বা অন্য কোনো মাঠ নিয়ে লাভ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরং কালীঘাটের টালির চালের বাড়িতেই শহিদ দিবস পালন করুন, যে কটা লোক হবে তার বাড়িতেই তাদের বসার জায়গা হয়ে যাবে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সীমান্তের মাদ্রাসা গুলি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, বাম জমানায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সীমান্তে মাদ্রাসাগুলি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন সীমান্তের মাদ্রাসাগুলি সন্ত্রাসের আঁতুর ঘর। পরে অবশ্য দলের চাপে তিনি সরে এসেছিলেন। তবে সেই দিন তিনি তো কোনো স্বপ্নাদেশ পেয়ে ওই মাদ্রাসাগুলি সম্পর্কে সতর্কতার কথা বলেননি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি মাদ্রাসাগুলির কাজ- কর্ম সম্পর্কে জানতেন। আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোনো মাদ্রাসায় যদি দেশবিরোধী কাজ করার গন্ধ পাওয়া যায় অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দমদম বিমানবন্দর থেকে মসজিদ সরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যখন কলেজে পড়তাম তখন থেকেই দমদম বিমানবন্দর লাগোয়া মসজিদের সমস্যার কথা শুনেছি। মসজিদ থাকার কারণে বিমানবন্দরের রানওয়ে বাড়ানো যাচ্ছে না। আমাদের সরকার এই মসজিদ সরানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন কেউ সাহস দেখায়নি আমাদের সরকার সেই সাহস দেখিয়েছে।
দ্বিধা বিভক্ত তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দখল বিতর্ক সম্পর্কে সুকান্ত মজুমদার বলেন, শুনেছি তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৪০০০ কোটি টাকা আছে। টাকা যদি ঋতব্রত নিয়ে নেয় তাহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো চরম পদক্ষেপ করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার ভিখারি হয়ে যাবে।
অন্যদিকে রাজ্যে শিল্পায়ণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সরকার রাজ্যের শিল্পায়নের স্বপ্নকে সত্যি করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। ১০০ কোটি টাকার শিল্প করতে গেলে স্থানীয় পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদের থেকে কোনো শংসা পত্র নিতে হবে না। ওগুলো একটা কাটমানি দেওয়ার জায়গা ছিল। সেই সব আমাদের সরকার বন্ধ করে দিয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারতীয় মজদুর সংগঠন বৃহত্তম একটি শ্রমিক সংগঠন। এই সংগঠনের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ টাকা চায় তাহলে আপনারা তাকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিন। তোলাবাজি কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আগামী দিনে আরো বেশ কিছু সংস্কার হবে তাতে রাজ্যে শিল্পায়ণোর সুযোগ আরও বাড়বে।

