জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৩ নভেম্বর:’নির্বাচন আসলে আবারও লোকজন হবে। মিছিলে রাস্তা জ্যাম হয়ে যাবে। এখন পেট্রোল ডিজেলের দাম কমানোর দাবিতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে লড়াই চলছে। অনেকেই বেসুরো গাইছেন। তবে ত্রিপুরার মানুষ বিপ্লবদেবের সঙ্গে আছেন।’ মঙ্গলবার দুর্গাপুরে পেট্রোল ডিজেলের ওপর রাজ্যের কর কমানোর দাবিতে দলের পদযাত্রায় অংশ নিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
প্রসঙ্গত, সামনেই ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক প্রচার শুরু হয়েছে। তবে এবারে ত্রিপুরার মাটি দখলে মরিয়া এরাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যে সেখানে তৃণমূলের একাধিক নেতা নেতৃত্ব গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার ক্ষমতায় থাকা বিজেপির বেশ কিছু নেতা, বিধায়ক কখনও দলের বিরুদ্ধে আবার কখন সেখানের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবদেবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। দলের নেতাদের এধরনের বেসুরো গাওয়ায় কার্যত অস্বস্তিতে সেখানের গেরুয়া শিবির। সম্প্রতি বিজেপির সুদীপ রায় বর্মন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আর তাতেই আবার জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহল। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর গেরুয়া শিবিরে ভাঙন অব্যাহত। আর তাই প্রশ্ন উঠেছে, ত্রিপুরাতেও কি গেরুয়া শিবিরের রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে?
উল্লেখ্য, জ্বালানি তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অস্বাভাবিক মুল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল আম জনতা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার জ্বালানি তেলের ওপর কিছুটা কর কমিয়েছে। তারসঙ্গে দেশের একাধিক রাজ্যও সেখানের রাজ্য সরকারের নেওয়া কর কমিয়েছে। ফলে ওইসব রাজ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য অনেকটাই কম হয়েছে। তবে রাজ্য কোনও রকম কর কম না করায় জ্বালানি তেলের দাম কমেনি। আর তাই পেট্রোল ডিজেলের ওপর রাজ্যের কর কমানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে গেরুয়া শিবির।
মঙ্গলবার দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে মিছিল করে বিজেপি। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে যেভাবে মিছিল জনসমাগম হত, সেই তুলনায় কার্যত ফিকে ছিল এদিনের মিছিল। কর্মী সমাগমের ভিড় না হওয়ার প্রশ্নে সাংবাদিকদের দিলীপবাবু বলেন, “এখন পেট্রোল ডিজেলের দাম কমানোর লড়াই। নির্বাচন নেই। তাই লোকজন কম। নির্বাচন আসলে আবারও লোকজন হবে। তখন মিছিলে রাস্তা জ্যাম হয়ে যাবে।” এদিন ত্রিপুরায় সুদীপ রায় বর্মনের বেসুরো গাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” অনেকেই বেসুরো গাইছেন। তবে ত্রিপুরার মানুষ বিপ্লব দেবের সঙ্গে আছে।”

