আমাদের ভারত, মুর্শিদাবাদ, ১৬ এপ্রিল: ফের কাঠগড়ায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। মৃত রোগীর পরিজনদের ব্যাপক মারধরের অভিযোগ উঠল মেডিক্যাল কলেজেরই নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে শ্বাসকষ্ট নিয়ে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন হরিহরপাড়ার চোঁয়া গ্রামের বাসিন্দা বছর ৫৯ এর গোলাম রসুল। শুক্রবার সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারের দাবি, এমআরআই করার জন্য এদিন ওই প্রৌঢ়কে বাইরে বের করতে হাসপাতাল ভেতরে ঢুকতে চান পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেখানেই ওই প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়। অভিযোগ এমআরআই করতে নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তারক্ষীরা পরিবারের লোকজনকে বাধা দেয়। প্রথমে বচসা বাধে। অভিযোগ, তারপরেই কার্যত পরিবারের লোকজনকে বেধড়ক মারধর শুরু করে নিরাপত্তারক্ষীরা। মারধর করা হয় মৃতের পরিবারের মহিলা সদস্যদেরও। নিরাপত্তারক্ষীদের মারে আহত হয়েছেন মৃতের পরিবারের চারজন সদস্য। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বহরমপুর থানার বিরাট পুলিশবাহিনী। এদিকে নিরাপত্তারক্ষীদের পাল্টা মারধরের অভিযোগ তুলে মৃতের পরিবারের আটজন সদস্যকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। মৃতদেহ গাড়িতে রেখেই হাসপাতাল চত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের লোকজন।

যদিও গোটা বিষয়টি অস্বীকার করেছে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অমিয়কুমার বেরার সাফাই, “নিরাপত্তারক্ষীরা মারধর করেছে বলে শুনিনি। মৃতদেহ ওইভাবে হাসপাতালের বাইরে বের করে আনার নিয়ম নেই। পরিবারের লোকজন জোর করে মৃতদেহ বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করে। সেই সময় নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেওয়ায় বচসা বাধে। সেই সময় পরিবারের লোকজনই নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করে।”
তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার রোগীর পরিজনদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে কেন নিরাপত্তারক্ষীদের দুর্ব্যবহার পোহাতে হবে পরিজনদের, সেই প্রশ্নই তুলছেন সাধারণ মানুষ।

