আমাদের ভারত, সিউড়ি, ২৭ জুলাই: স্কুলের জায়গা দখল করে তৈরি হয়েছিল তৃণমূলের বিলাসবহুল কার্যালয়। ওই কার্যালয়ে কর্মীদের বসার জায়গার পাশাপাশি দ্বিতলে ছিল শীততপ নিয়ন্ত্রিত আরামকেদারা। সেখানে নিয়মিত মহিলাদের যাতায়াত ছিল বলে দাবি বিজেপির। কারণ সেখান থেকে মিলেছে মহিলাদের আসবাব।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ২০১৭ সালে সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের পুরন্দরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জায়গায় গড়ে ওঠে তৃণমূলের বিলাসবহুল অফিস ঘর। স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক তৃণমূলের ভয়ে রেজুলেশন করে স্কুলের জায়গা ছেড়ে দেন তৃণমূলের হাতে। দ্বিতল ওই অফিস ঘরের নিচে ছিল কর্মীদের বসার জায়গা, সভাকক্ষ। উপরে গড়া হয়েছিল নেতাদের শীততপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল শয়ন কক্ষ। ওই কার্যালয়ে মজুত ছিলো গরিব মানুষের বিতরণের জন্য কাপড়, কম্বল সহ বেশ কিছু সামগ্রী। সেখানে বসতেন তৃণমূলের সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল ব্লক সভাপতি দাপুটে নেতা নুরুল ইসলাম।
সরকার পরিবর্তনের পরেই স্কুল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। ভূমি দফতরকে বিষয়টা লিখিতভাবে জানান। এরপরেই রবিবার ভূমি দফতর থেকে ওই জায়গা মাপ করে স্কুলকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় খুলে স্থানীয় মানুষ পরিষ্কারে হাত লাগান। এরপরেই তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ক্লাস ঘরে পরিণত হলো। স্কুলের জায়গা ফিরে পেয়ে খুশি পড়ুয়া থেকে শিক্ষক- শিক্ষিকা সকলে।
স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক শান্তনু আচার্য বলেন, “জমিদাতারা ৩৪ শতক জায়গা স্কুলকে দান করেন। কিন্তু ২০১৭ সালে তৃণমূল জোর করে সেই জায়গা দখল করে পার্টি অফিস বানায়। সেই সময় আমরা রেজুলেশন করে লিখেছিলাম ‘জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করলে চলবে না।‘ সেই কারণে জায়গা তৃণমূলকে দেওয়া হয়েছিল। রেজুলেশনে লেখা হয়েছিল সরকার পরিবর্তন হলে পুনরায় ওই জায়গা ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তাই সরকার পরিবর্তনের পরেই আমরা বিডিও, ভূমি দফতরে আবেদন করে পার্টি অফিস স্কুলে ঢুকিয়ে নিলাম। আমাদের স্কুলের ১৯৬২ জন ছাত্র- ছাত্রী। এমনিতেই জায়গার সঙ্কুলান হয় না। এই ঘর গুলি পাওয়ায় আমাদের উপকার হলো।”
বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল এভাবে সাড়া রাজ্যে জায়গা দখল করেছিল। একইভাবে পুরন্দরপুর স্কুলের জায়গা দখল করে পার্টি অফিস বানিয়েছিল। আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানাই ওই ঘর ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। ওই ঘরে তৃণমূল নেতারা মদ মেয়ে নিয়ে ফুর্তি মারত। এটাই ওদের সংস্কৃতি।”
তৃণমূলের সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, “ওই জায়গা আমরা কিনেছিলাম। স্কুল কর্তৃপক্ষ অনৈতিকভাবে পার্টি অফিস দখল করেছে। আমরা জোর করে জায়গা দখল করলে তারা আইনের দ্বারস্থ হয়নি কেন? আমরা এর বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হব।”

