আমাদের ভারত, ১৮ মে: এসএসসি দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। গত মাসে এসএসসি দুর্নীতি মামলায় নিজাম প্যালেসে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চের স্থগিতাদেশে তা থমকে যায়। কিন্তু সেই স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে পুনরায় হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। এই ঘটনায় শাসক দলের উদ্দেশ্যে আক্রমণ শানাচ্ছেন বিরোধীরা। এসএসসি দুর্নীতি মামলায় শুধু পার্থ চট্টোপাধ্যায় নয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, এই দুর্নীতির দায় মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিতে হবে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উচিত দুর্নীতি নিয়ে সব সত্যি কথা বলে দেওয়া।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ে হাজিরা প্রসঙ্গে, সুকান্ত মজুমদার বলেন, “নৈতিকতার এই শব্দবন্ধটা সম্ভবত কোনোদিন শোনেননি তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা।” তিনি বলেন, “আমি বলবো পার্থবাবুর উচিত সব সত্য কথা বলে দেওয়া। কারা কারা তাকে লিস্ট দিয়েছিলেন, কার চাপে সেই লিস্টের নাম থাকা প্রার্থীদের চাকরি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তাদের নাম বলে দেওয়া উচিত পার্থ বাবুর।”
ইতিমধ্যে আমফানের ত্রানে টাকা তছরুপ থেকে শুরু করে এসএসসি মামলায় সবকিছুতেই নাম জড়িয়েছে শাসক দলের একাধিক নেতার। এবার এই ঘটনায় শুধু পার্থবাবু নয় গোটা দলের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেছেন সুকান্ত মজুমদার। বিজেপি নেতা বলেছেন, “আমি ১০০% নিশ্চিত শুধু পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও কোনো অ্যাডভাইজারি কমিটি এর সঙ্গে যুক্ত নয়, তাদের দলের অন্যান্য সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এর সাথে যুক্ত। তারা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। দলের সিদ্ধান্তে এটা হয়েছে। তার ফলে এভাবে চাকরি বিক্রি করা হয়েছে। জেলা থেকে রাজ্য স্তরের বহু নেতার এই দুর্নীতির সঙ্গে যোগ রয়েছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, এই দুর্নীতির দায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিতেই হবে। তিনি বলেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দলের সর্বোচ্চ প্রধান। এর আগে ফিরহাদ হাকিম মিডিয়ার সামনে বলেছেন যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে তার দায় গোটা মন্ত্রীসভার। আর সেই মন্ত্রিসভার মাথায় বসে আছেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তিনি দায় এড়াতে পারেন না। তাকে এর দায় নিতে হবে।” বিজেপি সাংসদের কথায় অন্যায় হয়ে থাকলে সে দায় মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে।

