পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্ৰেপ্তারে বাঁকুড়ায় বাজি ফাটিয়ে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে উল্লাস বেকার যুবকদের

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৩ জুলাই: রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, বর্তমান শিল্পমন্ত্রী তথা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় শনিবার সকালে ইডি’র হাতে গ্রেফতার হতেই জেলা জুড়ে খুশির হাওয়া। পার্থ ও তার বান্ধবী অর্পিতার গ্ৰেপ্তারের খবরে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। অপরদিকে জেলার আর এক সাংসদ সৌমিত্র খাঁ কড়া মন্তব্য করেন।

এদিকে বাঁকুড়ায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে রাজপথে নেমে এলেন জেলার শিক্ষিত বেকার যুবকরা। এদিন তারা বাজি ফাটিয়ে পথ চলতি মানুষকে মিষ্টিমুখ করিয়ে বোঝাতে চাইলেন তারা খুশি। এই শিক্ষিত বেকার যুবকদের পক্ষে অরূপ মন্ডল বলেন, আমি সোশ্যাল স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বাড়িতে বসে আছি। চাকরি পাইনি। তার মার্কশিট দেখিয়ে তিনি বলেন, বাবা মায়ের ঘাড়ে বসে অন্ন ধ্বংস করছি। আর অন্যদিকে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা শিল্পমন্ত্রী অযোগ্যদের স্কুলে চাকরি দিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে মেয়ের বয়সী বান্ধবীদের সঙ্গে ফুর্তি করছেন। ওনাদের মত লোকেরা যদি জেলে পচতে থাকেন তাহলে আমরা যদি চাকরি নাও পাই তাহলেও শান্তি পাবো। সারদা রোজভ্যালিতে যেসব রাঘব বোয়ালরা গরিবের রক্ত জল করা টাকা আত্মসাৎ করে আয়েশ করছেন, ইডি-সিবিআই তাদেরও গ্রেফতার করে আজীবন জেলে পোরার ব্যবস্থা করুন। তাহলেই সারদায় টাকা রেখে যারা আত্মহত্যা করেছেন তাদের আত্মা শান্তি পাবে। যারা টাকা ফেরত না পেয়ে ঘর বাড়ি, জমি জায়গা, ঘটি-বাটি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তারাও শান্তি পাবেন। অরূপ মন্ডল বলেন, আমরা সারদা রোজভ্যালিতে সিবিআই-ইডির শম্বুক গতি দেখে হতাশ হলেও এবার যখন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মত রাঘব বোয়ালরা ধরা পড়ছেন তখন এই কাণ্ডের সর্বোচ্চ কান্ডারিও পাকড়াও হবেন।

এদিকে বাঁকুড়ার সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, “ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।” এই বাংলা ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলা। রামকৃষ্ণ, সারদা ও স্বামীজীর বাংলায় মা কালীকে নিয়ে যারা ফাজলামো করে তাদের শাস্তি তো অবধারিত।

বিষ্ণুপুরের সংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, আজ আমি মা কালীকে নিজের হাতে পুজো দিয়েছি। কামনা করেছি, যেন ইডিকে আরো শক্তিশালী করেন মা কালী। তিনি বলেন, এবার ডাকাত দলের সর্দার আর সর্দার রানী গরাদ খানায় ঢুকবেন। এদিন বিকালে বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলে সিপিআই(এম)’র এরিয়া কমিটির পক্ষে একটি প্রতিবাদ মিছিল এলাকা পরিক্রমা করে বড়জোড়া চৌমাথায় মোড়ে দশ মিনিট প্রতিকী ভাবে রাস্তা অবরোধ করেন। দলীয় নেতা কর্মীরা সেখানে একটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন। দলের এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুজয় চৌধুরী বলেন, অবিলম্বে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করতে হবে! পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী সহ পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়, মোনালিসা দাস সহ এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সিপিআই(এম) নেতা তথা বড়জোড়ার প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। তিনি বলেন, আমাদের জেলার মানুষ আরেক পার্থ দে। শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন। ছোট্ট একতলা বাড়িটিকে রং পর্যন্ত করতে পারেননি। অধ্যাপক মানুষ। বাঁকুড়া শহরে তাঁর বাড়ি এবং নিরহংকারী সেই মানুষটিকে তৃণমূলীরা একবার দেখে আসুন। শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারী প্রসঙ্গে জেলার তৃণমূল নেতারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে কেউ কেউ আড়ালে আবডালে বলছেন, এ লজ্জা রাখি কোথায়। আবার কেউ কেউ বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে বলে মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *