আমাদের ভারত, ১ এপ্রিল:আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শুরু হচ্ছে বোর্ড পরীক্ষা। তার আগে শুক্রবার নবম ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের মুখোমুখি হয়ে পরীক্ষা ভীতি মোকাবিলার পথ বলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির তালকাটরা স্টেডিয়ামে আয়োজিত পরীক্ষা পে চর্চা ২০২২-এ যোগদানের জন্য অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করিয়েছিলেন দেশের প্রায় ১৭ লক্ষ স্কুল পড়ুয়া, শিক্ষক, অভিভাবক। এটি ছিল পঞ্চম পরীক্ষা পে চর্চা।
ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে পড়ুয়াদের জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পড়ুয়াদের পরীক্ষাভীতি কাটাতে তার প্রথম পরামর্শ, “আমরা পরীক্ষার সময় উৎসব উপভোগ করি না। কিন্তু পরীক্ষাকে উৎসবে পরিণত করলে আমরা তা উপভোগ করতে পারি। তাই পরীক্ষা দিতে হবে উৎসবের মেজাজে”।
পরীক্ষার আগে পাঠক্রম শেষ না করতে পারার চাপে ভোগেন অনেক পড়ুয়াই। তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেবাসের কতটা বাকি রয়ে গেল সেটা ভেবে মানসিক চাপ বাড়াবেন না। যতটা শেষ করতে পেরেছেন সেটুকুর উপরই আস্থা রাখুন। পড়ুয়াদের সঙ্গে মত বিনিময়ের সময় তাদের নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার উপদেশ পরীক্ষা নিয়ে বেশি চিন্তা করলে মনে আতঙ্ক ঘর করবে। পরীক্ষায় সাফল্যের ঠিকানা খুঁজে পেতে পড়ুয়াদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, প্রস্তুতি ঠিকমত না হলে মনে ভয় চেপে বসে। তাই যদি ঠিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায় পরীক্ষা ভালো হবেই।
অতিমারী পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে পড়ুয়াদের অনলাইনে পড়াশোনা করতে হয়েছে।পরীক্ষার্থীর আশ্বস্ত করে মোদী বলেন,অনলাইন বা অফলাইন পড়াশোনায় কোন ফারাক নেই। অনলাইনে পড়াশোনার সময় মনটাকে একটু স্থির করতে হবে।
পরীক্ষা পে চর্চায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে । পড়ুয়াদের সতর্ক করে তিনি বলেন পড়াশোনার সময় যেনো অন্যদিকে পড়ুয়ারা মন না দেয়। এই সময়কালে অনলাইনে পড়াশোনা করছে পড়ুয়ারা। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই মোদী বলেন, “যখন অনলাইন ক্লাস হয় তখন পড়াশোনা করো নাকি রিলস দেখো”? একথা শুনেই হাসিতে ফেটে পড়ে পড়ুয়ারা। তিনি বলেন, মনঃসংযোগ করা অত্যন্ত জরুরি। অনলাইন ক্লাসেও যদি মন দিয়ে পড়াশোনা করা যায় তাহলে কোন সমস্যা হবে না।অনলাইন শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অনলাইনে বিশ্বের যেকোনো পাঠ নেওয়া যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার মাধ্যমগুলিও পরিবর্তিত হয়েছে। পড়ুয়াদের উচিত উভয় মাধ্যমকেই যথাযথভাবে ব্যবহার করা। অনলাইন শিক্ষায় ব্যাক্তির শিক্ষার বিকাশ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।

