আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৩ আগস্ট: জটিল রোগে আক্রান্ত মেয়ের চিকিৎসায় সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটির বাসিন্দা শ্যামাপদ তন্তুবায়। মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিজের পুঁজি, স্ত্রী’র গয়না বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন প্রতিবেশী, আত্মীয়- স্বজন ও বন্ধুদের দ্বারস্থ হয়েছেন সাহায্যের আশায়।
পেশায় কাঠ মিস্ত্রি শ্যামাপদর সাড়ে সাত বছর বয়সের মেয়ে অঙ্কিতা জটিল ক্রনিক হেপাটাইটিস অ্যান্ড এভালুয়েশন (ক-৭৩-৯) রোগে আক্রান্ত। গা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, গায়ে ও মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা হচ্ছে। তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। গরিব বাবা মেয়ের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মীয় স্বজন, পাড়া- প্রতিবেশী সকলের কাছে হাত পাততে বাধ্য হয়েছেন মেয়ের ভালো চিকিৎসার জন্য। কিন্তু সেভাবে সাহায্য পাচ্ছেন না।
শ্যামাপদবাবু বলেন, ৪ বছর বয়স থেকে তার মেয়ে এই জটিল রোগে আক্রান্ত। তিনি দু’বছর ধরে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা করাচ্ছেন প্রফেসর অভয়চরণ পাল ও ডাঃ অচিন্ত্য মন্ডলের অধীনে। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা কলকাতার পিজি হাসপাতালে দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তিনি বারবার চেষ্টা করেও পিজি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেননি। কেউ কেউ তাকে পরামর্শ দেন হায়দারাবাদের এআইজি হাসপাতালে মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাকে হায়দারাবাদে যাওয়ার জন্য গঙ্গাজলঘাঁটি থানা ১০ হাজার, পাড়ার ছেলেরা ২১ হাজার, গঙ্গাজলঘাঁটির দলিল লেখকরা ৫ হাজার, মেয়ের স্কুল থেকে ৩ হাজার, কারো কাছে ১০০০ এইভাবে সকলের সাহায্যে ৫০ হাজার টাকা যোগাড় করে এবং স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে আরো ৯০ হাজার নিয়ে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে হায়দারাবাদে যান। প্রথমেই ১,৩০,০০০ টাকা খরচ হয়ে গেছে। সেখানের চিকিৎসকরা দীর্ঘ চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতি মাসে ৪/৫ হাজার টাকার ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার খেতে বলেছেন। অক্টোবর মাসে ফের হায়দারাবাদে মেয়েকে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু টাকা পয়সা নেই। তিনি হন্যে হয়ে দোরে দোরে ঘুরছেন, তার করুণ আর্তি মেয়েকে বাঁচাতে সাহায্য করুন। তিনি আশায় বুক বেঁধেছেন যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি তার মেয়ের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে ফুটফুটে মেয়েটার জীবন বাঁচে। শ্যামাপদ তন্তুবায় এর মোবাইল নং -৯৬৪৭০২২৮৭৪।

