আমাদের ভারত, ১৪ আগস্ট: রাজ্যে সাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন হতে চলেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হবে। তাই ওই দিনটিকে আয়ুষ্মান দিবস হিসেবে পালন করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এক অজ্ঞাত কারণে রাজ্যবাসী আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। কিন্তু ১৬ আগস্ট থেকে সেই পরিস্থিতি বদলাবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প চালু হবার ফলে বাংলার মানুষ আবারও গোটা দেশের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। তিনি জানান, ১৬ আগস্ট রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি চালু করা হবে এবং এর আওতায় প্রায় দেড় কোটি পরিবার ও ছয় কোটি মানুষ যুক্ত হবেন।
তিনি আরো স্পষ্ট করেন, যারা আয়ুষ্মান ভারতের কেন্দ্রীয় মানদণ্ডের বাইরে থাকবেন তাদের জন্য একই দিনে রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য যোজনা চালু করবে। এই প্রকল্পেও সমানভাবে বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেশ স্বাস্থ্য সুরক্ষা পাওয়া যাবে। ফলে রাজ্যের কোনো বাসিন্দা স্বাস্থ্য বীমা সুরক্ষার বাইরে থাকবে না।
আয়ুষ্মান ভারতের অন্যতম বড় সুবিধা প্রতি পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবে। পরিবারের সদস্য সংখ্যার কোনো ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না, অর্থাৎ একটি পরিবারের সব সদস্যই সুবিধার আওতায় থাকবেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগে থেকেই কোনো ব্যক্তি জটিল রোগে আক্রান্ত থাকলেও প্রকল্প চালুর প্রথম দিন থেকেই সেই রোগের চিকিৎসার খরচ প্রকল্পের আওতায় থাকবে, অর্থাৎ পুরনো রোগের ক্ষেত্রেও চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করবে স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প।
এই প্রকল্পের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তিন দিন আগে থেকে ছুটি পাওয়ার ১৫ দিন পর পর্যন্ত ওষুধ, ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা এবং ফলোআপ চিকিৎসার খরচ এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আলাদা কার্ড বহন করার প্রয়োজন হবে না। হাসপাতালের নির্দিষ্ট কাউন্টারে শুধু আধার কার্ড দেখালে ডিজিটাল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে এবং রোগী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
তিনি আরো জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকরা শুধু রাজ্যের হাসপাতালে নয়, দেশে ৪০ হাজারেরও বেশি অনুমোদিত হাসপাতালে এই সুবিধা পাবেন। এর ফলে পরিযায়ী শ্রমিক, রাজ্যের বাইরে ভ্রমণের সময় অসুস্থ হলেও চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প কার্যকর হবে।
৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রত্যেক নাগরিককে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সত্তর বছরের ঊর্ধ্ব কেউ এই প্রকল্প থেকে বাদ পড়বেন না।
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে আশঙ্কা দূর করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এখনই স্বাস্থ্য সাথী বন্ধ হচ্ছে না। আগামী দুই থেকে তিন মাস স্বাস্থ্য সাথী, আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা তিনটি প্রকল্প একসাথে চলবে। ধাপে ধাপে উপভোক্তারা নতুন প্রকল্পগুলিতে স্থানান্তরিত হওয়ার পর এবং পরিষেবায় কোনো সমস্যা না থাকলে তবে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হবে।
রাজ্যের মোট ১৯৩০টি হাসপাতাল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, এর মধ্যে ১৩০৩ টি বেসরকারি এবং ৬২৭টি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল গুলিতে অযৌক্তিক বিল, অতিরিক্ত প্যাকেজ বা অন্য কোনো অনিয়ম রুখতে স্বাস্থ্য ভবনের একটি নোডাল টিম প্রতি ১৫ দিন অন্তর পর্যালোচনা করবে। আগামী ৯০ দিনের জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে চুক্তিও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, যাদের আভা আইডি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আগের মত বার বার চিকিৎসার ইতিহাস জমা দিতে হবে না। আভা আইডি দেখালেই রোগীর সম্পূর্ণ ডিজিটাল মেডিকেল রেকর্ড দেখা যাবে, ফলে চিকিৎসা প্রক্রিয়া আরো দ্রুত ও সহজ হবে। তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প থেকে বঞ্চিত থাকার পর অবশেষে রাজ্যের প্রায় দেড় কোটি পরিবার এবং ৬ কোটি মানুষ স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আসছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়ণের জন্য এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

