সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৬ জুন: স্কুল শিক্ষকদের গৃহ শিক্ষকতা যাতে বন্ধ না হয় তার আবেদন নিয়ে নতুন রাজ্য সরকারের জনকল্যাণ শিবিরে হাজির মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়াদের অভিভাবক অভিভাবিকারা।
বড়জোড়ায় জনকল্যাণ শিবিরে অভিনব এই আবেদন নিয়ে হাজির অভিভাবকদের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের ঘোষণা মত ৫৪টি প্রকল্পের পরিষেবা নেওয়ার আবেদন করতে তারা আসেননি। তারা এসেছেন স্কুল শিক্ষকদের টিউশনি পড়ানো যাতে বন্ধ করা না হয়, তার অনুরোধ নিয়ে। কেন না মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আর বেশি দেরি নেই। এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের নির্দেশ কার্যকর হলে বিপাকে পড়বে লক্ষ লক্ষ ছাত্র- ছাত্রী। উল্লেখ্য, এই একই দাবি নিয়ে বাঁকুড়ায় জেলা স্কুল পরিদর্শকের দ্বারস্থ হন একদল অভিভাবক।

গত ৪ মে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলের কোনো শিক্ষকের প্রাইভেট টিউশনি করা চলবে না। কিন্তু বাস্তব অবস্থা গত দু’ আড়াই দশক ধরে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র- ছাত্রীরা পুরোপুরি গৃহশিক্ষক নির্ভর হয়ে পড়েছে। এক শ্রেণির অভিভাবকদের অভিযোগ, যে শিক্ষক স্কুলে গিয়ে গতানুগতিক পড়িয়ে সরকারের মাইনে নিচ্ছেন সেই শিক্ষকই বাড়িতে বসে স্টুডেন্টদের আলাদাভাবে গাইড করছেন। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় এটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন রাজ্য সরকার শিক্ষকদের টিউশন বন্ধের ঘোষণায় মুশকিলে পড়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। তাই জনকল্যাণ শিবিরে ব্লক ও জেলা স্তরের আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ পাওয়া যাবে ভেবে অভিভাবকরা হাজির হয়েছেন।
তাদের দাবি, বাস্তব প্রেক্ষিতটা বোঝানো সম্ভব হবে এই আশা করেই তারা শিবিরে উপস্থিত হয়েছেন। বড়জোড়ার উন্মেষ হলে যে জনকল্যাণ শিবির অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বড়জোড়ার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ, বিডিও কার্তিক চন্দ্র রায় সহ একাধিক আধিকারিকরা। অভিভাবকরা বিডিও এবং বিধায়কের সঙ্গে দেখা করেন। মণিকা কুন্ডু নামে এক অভিভাবিকা বলেন, সরকার যে স্কুল শিক্ষকদের প্রাইভেট শিক্ষকতা বন্ধের ঘোষণা করেছে তা যেন এখনই কার্যকর না করা হয়। আর ছয় মাসের অতিরিক্ত সময় দাবি করেন তারা।
প্রসঙ্গত, পুজোর পরে মাধ্যমিকের টেষ্ট এবং আগামী বছরের সূচনা লগ্নেই মাধ্যমিক পরীক্ষা। এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক স্টুডেন্টদের থার্ড সেমিস্টার পরীক্ষা রয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে ও ফাইনাল ফেব্রুয়ারি মাসে, এই পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে ভোলানাথ গরাই নামে আরেক অভিভাবক বলেন, চলতি সেশন আর হয়তো সাত মাস। এই অবস্থায় যারা টিউশন পড়ছে তারা যদি অন্য গৃহ শিক্ষকের কাছে নতুন করে পড়তে যায় তাতে তাদের ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে। তাই অনুরোধ, যাতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা কোনো অসুবিধায় না পড়ে তার জন্য শিক্ষকদের এই সেশনটা ছাড় দেওয়া হোক।
ভোলানাথ গরাই, মণিকা কুন্ডুরা জানান, আমরা বিডিও এবং বিধায়ককে আবেদন জানাতে এসেছি যে, সরকার যে নিদের্শিকা জারি করেছে তা আমরা সমর্থন করি। কিন্তু এই মুহূর্তে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র ছাত্রীদের কথা ভেবে দেখার জন্য। বিডিও তাদের ৪/৫ দিন পর দেখা করার কথা বললেও বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ বলেন, এই বিষয়টা নিয়ে আমরা উচ্চ শিক্ষা দপ্তর ও মধ্য শিক্ষা পর্ষদের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করছি খুব কম সময়ের মধ্যে সমাধান হবে।

