আমাদের ভারত, ১৫ জুন: মৌসম ভবন আগেই জানিয়েছে দেশে বর্ষা ঢুকে পড়েছে, কিন্তু বৃষ্টি কোথায়? বৃষ্টির তো দেখাই নেই। আকাশে ছিঁটে ফোঁটাও মেঘের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি মেঘের এই অভাবের ছবি ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, মেঘ তৈরি হচ্ছে না আকাশে। অথচ আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের উপর জলীয় বাষ্পের কোনো ঘাটতি নেই।
গত ৪ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মাত্র ১৯.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে দেশে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এই সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বৃষ্টি হওয়ার কথা ৫৩.৭ মিলিমিটার, অর্থাৎ বর্ষণের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ। খাতায় কলমে বর্ষা প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না দেশে। প্রবল গরমে বাড়ছে অস্বস্তি।
দেশের মধ্য দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষা নিয়ে সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হচ্ছে কেবল উত্তর ও পূর্ব অংশে।
কৃত্রিম উপগ্রহে ১৫ জুন যে ছবি ধরা পড়েছে তাতে অনেকেই উদ্বিগ্ন। বর্ষা সক্রিয় থাকলেও দেশের বিস্তীর্ণ অংশের উপর যে ধরনের মেঘের ঘনঘটা থাকা দরকার একেবারেই সেটা নেই। অধিকাংশ এলাকায় আকাশ অস্বাভাবিক রকম পরিষ্কার। বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই। উপগ্রহ চিত্রে মেঘ জমতে দেখা গেছে। হিমালয়ের ওপর, উত্তর-পূর্ব ভারতে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশে, আরব সাগরের কাছে বর্ষা আপাতত দুর্বল।
প্রতিবারের মতো এবারও কেরল হয়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করেছিল। এরপর কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র হয়ে দেশের মধ্যভাগে পৌঁছায়। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণে বর্ষা ঢুকে গিয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, জলীয় বাষ্পের কোনো ঘাটতি নেই। সমস্যা রয়েছে ভূ- পৃষ্ঠের কয়েক কিলোমিটার উঁচুতে বায়ুমন্ডলে।
পশ্চিমা বায়ুকে সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আবহাওয়াবিদরা। এই বায়ু আসলে বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে প্রবাহিত বাতাসের দ্রুতগামী একটি স্রোত। তা স্বাভাবিক অবস্থান এর চেয়ে অনেক দক্ষিণে সরে এসেছে। তার ফলে পূর্বমুখী বায়ুর স্রোতে ব্যাঘাত ঘটছে। পূর্বমুখী বায়ু ভারতে মৌসুমী বায়ুর প্রবাহ মেঘ তৈরি এবং বৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই বায়ুর প্রভাবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বর্ষায় বজ্র বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। স্বাভাবিকের চেয়ে শক্তিশালী পশ্চিমা বায়ু তাতে বাধা দিচ্ছে। তাই পর্যাপ্ত মেঘ তৈরি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে জলীয় বাষ্প থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছে না।
তবে এই পরিস্থিতি সাময়িক বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। পূর্বাভাস বলছে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে পশ্চিমা বায়ু দুর্বল হতে পারে, তখন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে।

