ক্ষিপ্ত হাতির তান্ডবে আতঙ্ক বড়জোড়া বনাঞ্চলে, ব্যাপক শস্যহানি ওলতোড়া গ্ৰামে

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১১ মার্চ: এক ক্ষিপ্ত হাতির তান্ডবে সারা বড়জোড়া বনবিভাগের গ্ৰামগুলিতে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাঁকুড়া জেলার উত্তরে বেলিয়াতোড়, বড়জোড়া রেঞ্জ জুড়ে গত কয়েক মাস ধরেই হাতির উপদ্রব চলছে। মেদিনীপুরের জঙ্গল থেকে বেশকিছু হাতি বাঁকুড়া জেলায় প্রবেশ করেছে।হাতিগুলি দলছাড়া হয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে ঘরবাড়ি থেকে ফসল সব নষ্ট করে দিচ্ছে।এরফলে বন সন্নিহিত গ্ৰামগুলিতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল রাতে একটি ক্ষিপ্ত হাতি বড়জোড়ার ওলতোড়া গ্ৰামে তান্ডব চালায়। বিঘার পর বিঘা জমির আলু, পেঁয়াজ, সরষে সহ প্রচুর সবজি নষ্ট করে দিয়েছে। এই কারণে বন দপ্তরের বিরুদ্ধে গ্ৰামবাসীরা ক্ষুব্ধ।

অপরদিকে গতকাল সন্ধ্যায় এক যুবককে আছড়ে মারে হাতি। সৌম্য চট্টোপাধ্যায় নামে ওই যুবককে এখন
আশঙ্কাজনক অবস্হায় দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছান্দার নিবাসী ওই যুবক বাড়ি ফেরার সময় হাতির সামনে পড়ে। ঐ সময় হাতিটি রাস্তা পার হচ্ছিল।

স্হানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেই হাতিটির ছবি তুলতে গেলে হাতিটি তাকে শুড়ে পেঁচিয়ে আছড়ে মারে।আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গ্ৰামবাসীরা হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সংগ্ৰামী গণমঞ্চের সম্পাদক শুভ্রাংশু মুখার্জি বলেন, হাতির উপদ্রব দিন দিন বেড়েই চলেছে। শস্য হানি থেকে প্রাণহানি ঘটছে।বনদপ্তর এরপরেও যদি হাতি তাড়ানোর ব্যবস্থা না করে তবে আমরা বনদপ্তর ঘেরাও করতে বাধ্য হব।তিনি বলেন, আগে এই এলাকায় হাতির সংখ্যা ছিল ৫, এখন তা বাড়তে বাড়তে ৬৫ -তে দাড়িয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন হাতির তান্ডবে পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক সকলেই চিন্তিত। এই অবস্হায় পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বড়জোড়া বনবিভাগের রেঞ্জার ঋত্বিক দে জানান, হাতির গতিবিধির উপর তীক্ষ্ম নজরদারি চালানো হচ্ছে। হাতি তাড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্ৰহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তায় পাহারা এবং পরীক্ষার্থীদের পৌছে দেওয়ার ব্যবস্হা করা হয়েছে। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, সতর্ক করা সত্বেও মানুষ মানছে না, যার জন্য দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গ্ৰামবাসীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *