Pakistan, India, যখনই বুঝবো তখনই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাব, ফের ভারতকে সরাসরি হুমকি পাকিস্তানের, ভারতের প্রতিক্রিয়া কী?

আমাদের ভারত, ২০ জুন: অপারেশন সিঁদুর- এ ভারতের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু তারপর কিছু দিন যেতেই আবার যুদ্ধের হুমকি দিল পাকিস্তান। পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বসে সরাসরি এই হুমকির কথা বলেছেন।

পাকিস্তানে জল বন্টন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেয় মোদী সরকার। জল বন্টন চুক্তি নতুন করে পর্যবেক্ষণের কথা বলেছে ভারত। একে একে সিন্ধু নদের জল ঘুরিয়ে দেশবাসীর কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে। তারপর থেকেই ভারতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। সম্প্রতি জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিলের সিন্ধু চুক্তি নিয়ে নতুন মন্তব্যে এই বিতর্ক আবার শুরু হয়েছে।

এবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানে জল সরবরাহ বন্ধের ইঙ্গিত পাওয়ার পর সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, যদি পাকিস্তান বুঝতে পারে তাদের জল নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে তাহলে ইসলামাবাদ ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাববে।

এ আর ওয়াই নিউজে দেওয়া সাক্ষাতকারে খোয়াজা আসিফ বলেছেন, যে মুহূর্তে আমরা বুঝতে পারবো আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, আর জল আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার অংশ, আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাব। কেবল এই কথা বলেই তিনি থেমে থাকেননি। পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরো বলেন, ভারত যদি খুব দ্রুত জল সরবরাহ বন্ধ বা গতিপথ অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করে, আর তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে পাকিস্তানের সামনে যুদ্ধ ছাড়া কোনো পথ খোলা থাকবে না।

সাম্প্রতিক সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেন জলশক্তি মন্ত্রী। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, দু’বছর অর্থাৎ ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানি সিন্ধু নদের জল প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ভারতের তরফে সিন্ধুর এক ফোটা জল পাকিস্তানে যাবে না।

ভারতের সঙ্গে এই সংঘাতের আবহে পাকিস্তানিরা চরম অভ্যন্তরীণ জল সঙ্কটে ভুগছে। দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ বিশেষ করে সিন্ধ ও বালোচিস্তানের মত কৃষি প্রধান অঞ্চলে ভয়াবহ জলের অভাবে দিন কাটাচ্ছে।

পাকিস্তানি কৃষির অন্যতম প্রধান লাইফ লাইন শকুর ব্যারেজ অববাহিকায় জল প্রবাহ আশঙ্কা জনক ভাবে কমে গেছে। সিন্ধের সেচ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী নর্থ- ওয়েস্ট ক্যানেলে ৬৪.১ শতাংশ, রাইস ক্যানেলে ৩৮ শতাংশ, দাদু ক্যানেলে ৮২ শতাংশ জলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

তীব্র জল সঙ্কটের জেরে পাকিস্তানের রাজ্যগুলির মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিবাদ শুরু হয়েছে। সিন্ধ প্রদেশের নেতাদের অভিযোগ, পঞ্জাব প্রদেশে তাদের নির্ধারিত বরাদ্দ ৪৪ হাজার কিউসেক কমেছে, ২১ শতাংশ বেশি জল বেআইনিভাবে তুলে নিচ্ছে।

তবে পাকিস্তান যুদ্ধের হুমকি দিলেও ভারতের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয় সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *