CBI, RG Kar, আর জি কর কান্ড! সিবিআই দফতরে বিনীত- ইন্দিরা- অভিষেক, বয়ান রেকর্ড হলো তিন সাসপেন্ডেড পুলিশ আধিকারীকের

আমাদের ভারত, ১৯ জুন: আর জি কর কান্ডে প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, আইপিএস ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অভিষেক গুপ্তাকে তলব করে সিবিআই। শুক্রবার হাজিরা দেন তিনজন। সূত্রের খবর, তিনজনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। এই তিন আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছিল কয়েক দিন আগেই।

২০২৪- এর আগস্টে আর জি কর- এ চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল। তখন ইন্দিরা ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি সেন্ট্রাল। অভিষেক ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি নর্থ। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তিনজনকে সাসপেন্ড করে, কারণ আর জি কর কান্ডের সময় তাদের তিনজনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

কখনো নির্যাতিতার নাম প্রকাশ্যে বলা, কখনো ভুল বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করা, কখনো হাসপাতালে গড়ে ওঠা অসাধুচক্রকে আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল এই সব আধিকারিকের বিরুদ্ধে।দাবি উঠেছিল বিনীত ও ইন্দিরাকে অপসারণ করতে হবে। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার সেই সময় আন্দোলনকারী চিকিৎসক এবং নাগরিকদের দাবিতে আমল দেয়নি। পরে যদিও বিনীতকে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। তবে তাতে বিতর্ক থামেনি।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সিবিআই তদন্তভার পাওয়ার পর তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল ঘটনার সময় টালা থানার ওসি পদে থাকা পুলিশ আধিকারিক অভিজিৎ মন্ডল।

আর জি কর মেডিকেল কলেজের সেমিনার হলে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর সেখানে বহিরাগত সহ অনেক মানুষ প্রবেশ করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনার সপ্তাহ দু’য়েক পরে প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিও ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল। তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। তার প্রেক্ষিতে প্রথমে সাংবাদিক বৈঠক করে তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা জানিয়েছিলেন, ভিডিওটি সেমিনার হলের, কিন্তু ঠিক যেখানে দেহ উদ্ধার হয়েছিল সেই জায়গা সুরক্ষিত ছিল। পুলিশ ঘিরে রেখেছিল জায়গাটি। তার বাইরে ঘরের অন্য অংশে ভিডিও করা হয়েছে। সেই সময় ইন্দিরার বিরুদ্ধে তথ্য আড়ালের অভিযোগ উঠেছিল।

অপরাধের পর সেমিনার ঘরের চরিত্র বদল, রাত দখলের রাতে সেমিনার হল ভাঙ্গচুর সহ তদন্তে গাফিলতি সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলো উঠেছিল তাতে জড়িয়ে ছিল তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেকের নাম। একই সঙ্গে নির্যাতিতার মা পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তোলার পর সমাজ মাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। নির্যাতিতার দেহ নিয়ে তার বাড়িতে যে পুলিশ কর্মীরা গিয়েছিলেন সেই দলেও ছিলেন অভিষেক নিজে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *