আমাদের ভারত, মালদা, ১২ নভেম্বর:
মালদা জেলা গাজোল ব্লকের কোটাল হাটির বেশকিছু ঘর আদিবাসী সম্প্রদায় খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিল। সেইসব আদিবাসীদের খ্রিস্টান ধর্ম থেকে ফের স্বধর্মে ফিরিয়ে এনেছেন গুরুমা কমলি সরেন। সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান গুরুমা কমলি সরেন গুরুমা। এই ধরনের আরো নানা সমাজসেবক মূলক কাজের জন্য পদ্মশ্রী সম্মান পেলেন গুরুমা কমলি সরেন। সোমবার মালদায় ফিরে ভাসলেন জনজোয়ারে।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান জানান। এরপর বিমানে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন তিনি। আজ সকালে মালদা গৌড় স্টেশনে নামেন। সেখানে তার ভক্তরা তাঁকে সংবর্ধনা দেন। পাশাপাশি মালদা টাউন স্টেশন থেকে হুডখোলা গাড়িতে একটি র্যালিও করা হয়। এরপর গাজোলে ফিরতে না ফিরতেই গুরুমা কমলি সরেনকে আদিবাসী সমাজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়। এরপর একে একে গাজোলদাসী ও গাজোল- ১ নং গ্ৰামের পঞ্চায়েতের প্রধান বিন্দু পুঝর মাল, উপ প্রধান কাজোল কুন্ডু ও গাজোল বিজেপি যুব মোর্চা পক্ষ থেকে গুরুমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এরপর গাজোল হাই স্কুল মাঠ থেকে গুরুমাকে হুডখোলা গাড়িতে চড়িয়ে খোল করতাল, মাদল ও ব্যান্ড বাজিয়ে সারা গাজোল পরিক্রমা করেন গুনমুগ্ধরা। শোভা যাত্রা গিয়ে শেষ হয় তাঁর আশ্রম কোটাল হাটি গ্রামে।

পুরাতন মালদার যাত্রা ডাঙ্গা বাগমারা গ্রামের আদিবাসী পরিবারের মেয়ে কমল সরেন। গাজলের তালতলা গ্রামের শাওনা হেমরম এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর জড়িয়ে পড়েন আশ্রম এর সঙ্গে। দীক্ষা নেন রাজেন সাধুর কাছে। শুরু করেন সমাজসেবামূলক কাজ। দ্বিতীয় বিয়ে করেন আশ্রমিক ভগন কিস্কুকে। গাজলের প্রত্যন্ত এলাকায় কোটাল হাটি আশ্রমে বসবাস করে সমাজ সেবায় নেমে পড়েন তিনি। ধর্মান্তরিত আদিবাসীদের সমাজে ফিরিয়ে আনার কাজে ব্রতী হয়েছিলেন। মালদা জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত আদিবাসীদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। কাজের সুবাদে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর শিষ্য।সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২৫ জানুয়ারি পদ্মশ্রী প্রাপক হিসেবে গুরুমা কমলি সরেনের নাম ঘোষণা করা হয়।

