Kolaghat, কোলাঘাটে ফুচকা খেয়ে অসুস্থ শতাধিক, আশঙ্কা জনক ১ শিশু, ৩১জন ভর্তি হাসপাতালে

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ২২ অক্টোবর: কোলাঘাটের সাগড়বাড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ফুচকা খেয়ে অসুস্থ শতাধিক। ৩১ জন পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি। একটি শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে তাম্রলিপ্ত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অসুস্থদের সুচিকিৎসা, এলাকায় সরকারী ডাক্তারবাবুর উপস্থিতিতে মেডিক্যাল টিম পাঠানো সহ ফুচকার গুণমান যাচাই ও ওই খাদ্যের উপর নজরদারির দাবি জানিয়ে গতকাল স্মারকলিপি দিয়েছিল কোলাঘাট ব্লক হাসপাতাল ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা সংগঠন।

গতকালই দু’জন ফুচকাওয়ালাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ পাওয়ার পরেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় এবং হাসপাতালে যান জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, কোলাঘাট ও পাঁশকুড়া ব্লকের বিডিও এবং থানার আইসি।

সংগঠনের ব্লক কমিটির কার্যকরী সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, গত ১৭ অক্টোবর, শনিবার সাগরবাড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দক্ষিণ সাগরবাড় গ্রামের বাসিন্দা সন্তোষ মান্না নামে এক ফুচকা ওয়ালা পদমপুর দুর্গা মন্ডপের কাছের স্টলে ফুচকা বিক্রি করছিল। ওই স্টল থেকে ফুচকা খেয়ে সাগরবাড়, পদমপুর, দেউলবাড়, রেনুবাড়, বরদাবাড় (আংশিক) প্রভৃতি গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে ৩১ জনকে স্থানীয় পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে কৃষ্ণেন্দু দিন্ডা (বয়স পাঁচ) নামে এক বাচ্চাকে বুধবার তাম্রলিপ্ত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রতন দিন্ডা নামে এক ব্যক্তির পরিবারেরই ছয় জন সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে ভর্তি রয়েছে। বাকি অসুস্থদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বাড়িতে এখনও স্যালাইন চলছে।

নারায়ণবাবু জানান, অবিলম্বে ওই ফুচকা কাণ্ডে অসুস্থদের সুচিকিৎসা, এলাকায় সরকারি ডাক্তারবাবুর উপস্থিতিতে মেডিক্যাল টিম পাঠানো সহ ফুচকার গুণমান যাচাই এবং ওই ধরনের খাদ্যের গুণমান পরীক্ষা করে যাতে খাদ্য সরবরাহ করা হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। আজ আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আমি এবং কোলাঘাট ব্লক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অর্জুন ঘোড়ই হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থদের সাথে সাক্ষাৎ করে চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়ার পর অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার মৌ মজুমদারের সঙ্গে দেখা করে অসুস্থদের উপযুক্ত চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেছি। উনি জানান, ৩১ জনের মধ্যে একজনকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, বাকি ৩০ জনের মধ্যে ৬ জন সুস্থ হয়েছে। আজ ওদের ছেড়ে দেওয়া হবে। অন্যান্যদের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ঠিকই আছে। দুই- একদিনের মধ্যেই ছেড়ে দেওয়া যাবে।

জেলা শাসক জানান, সি এম ও এইচ’কে নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *