High Court, Mumbai, কেবল বিয়ের জন্য ধর্ম বদলের অনুমতি দেওয়া সঠিক নয়, মৌলবির আর্জি খারিজ আদালতের

আমাদের ভারত, ২২ অক্টোবর: ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে। ধর্ম প্রচারের স্বাধীনতা আছে। আবার ইচ্ছেমতো ধর্ম পরিবর্তনের স্বাধীনতা আছে, কিন্তু সেই স্বাধীনতার অর্থ এটা নয় যে কেবল বিয়ে করার জন্য ধর্ম বদলে নেবে। এক্ষেত্রে জোর জবরদস্তি বা চাপ দেওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকে যায়। ধর্মান্তকরণ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বম্বে হাইকোর্টের।

আদালত স্পষ্ট বলেছে, বিয়ের জন্য ধর্ম বদলের অনুমতি কোনভাবেই দেওয়া সম্ভব নয়। সদ্য মহারাষ্ট্র সরকার একটি ধর্মান্তকরণ বিরোধী আইন এনেছে। মহারাষ্ট্র ফ্রিডম অফ রিলিজিয়ন অ্যাক্ট নামের ঐ আইনটিতে বলা হয়েছে কোন রকম চাপ দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে জবরদস্তি করে প্রলোভন দেখিয়ে বা বিয়ের নামে চাপ দিয়ে যদি কারো ধর্ম বদল করা হয় তাহলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হবে।

আইনে বলা হয়েছে, কেউ চাইলে স্বেচ্ছায় ধর্ম বদল করতে পারে, কিন্তু সেটার জন্য অন্তত সাতদিন আগে নোটিশ দিতে হবে। প্রমাণ করতে হবে কারো দ্বারা ভীত বা প্রভাবিত হয়ে ওই ব্যক্তি ধর্ম বদল করছেন না। এই আইনে বলা হয়েছে, মূলত অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তকরণ বা লাভ জেহাদের মত অপরাধ রুখতে এই আইন আনা হয়েছে।

এরপর ৭০ বছর বয়সি এক মৌলবি এই আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাইকোর্টে মামলা করেন। তাঁর দাবি ছিল, এই আইন ইচ্ছা মত ধর্ম পালন ও ধর্ম প্রচারে স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে, যা সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। কিন্তু বম্বে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট বলে দিয়েছে, ধর্ম প্রচার বা পালনের স্বাধীনতা এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না, কিন্তু এভাবে বিয়ের ঠিক একদিন আগে ধর্ম বদল সমর্থন যোগ্য নয়। আদালত বলেছে এই আইন সমাজের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবধারা বজায় রাখতে আনা হয়েছে। রাজ্য সরকার জোর করে বা চাপ দিয়ে ধর্ম বদল নিয়ে চিন্তিত। যে কেউ ইচ্ছেমতো ধর্ম বদল করতে পারে, কিন্তু কেবল বিয়ের জন্য ধর্ম বদল সমর্থনযোগ্য নয়। বম্বে হাইকোর্টের স্পষ্ট কথা, আপনারা অন্যদের ধর্ম বদলের জন্য প্রভাবিত করছেন। রাজ্য সরকার সেটা বাধা দিয়েছে। মনে হচ্ছে আপনাদের আবেদনের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ঠিকমতো আবেদন করুন। মৌলবির আর্জি খারিজ করেছে বম্বে হাইকোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *