Sukanta, BJP, ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি ভেঙে অরাজকতা তৈরির চক্রান্ত করছে বিরোধীরা, অভিযোগ সুকান্তর

আমাদের ভারত, ৩ নভেম্বর: শিলিগুড়িতে বিজেপির “গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও” কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে বিরোধীদের এক হাত নেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা সংবিধান কেন্দ্রীক ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিগুলোকে ভেঙে অরাজকতা তৈরি করার চক্রান্ত করছে।

এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে মঙ্গলবার সকালে পদাতিক এক্সপ্রেসে কলকাতা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে এসে পৌঁছান সুকান্তবাবু। তাকে অভ্যর্থনা জানান রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ সহ দলের স্থানীয় নেতা- কর্মীরা। বাঘাযতীন পার্ক চলো স্লোগানকে সামনে রেখে শহর জুড়ে বিজেপির মহা মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বাঘা যতীন পার্ক থেকে শুরু হওয়া মিছিল হিলকার্ট রোড ধরে মহাত্মা গান্ধী চকে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন বিজেপি নেতৃত্ব।

নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে বিজেপির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কর্মী সমর্থকদের উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেশের বিরোধী শিবির ও তাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুকান্ত মজুমদার। গঠনমূলক সমালোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি মনে করিয়ে দেন, বিজেপি ৫০ বছরেরও বেশি সময় সফলভাবে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করেছে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন ও জিডিপি বৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র সীমার ওপরে তুলে আনা সম্ভব হয়েছে। এসব সহ্য করতে না পেরে বিরোধীরা দেশে অরাজকতা ছাড়ানোর এত চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিজেপি তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। যাদের পছন্দ হচ্ছে না তাদের যে চ্যালা চামুন্ডা আছে, ভারতে যে আরশোলা, গিরগিটি, ছাড়পোকা যাই হোক না কেন তাদেরকে কিছু উপহার দিয়ে, কিছু এনার্জি দিয়ে তাদেরকে বুস্ট করে ভারতবর্ষের এই গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরের জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। স্পষ্ট সতর্কতা দিয়ে জানান, জাতীয় সড়ক অবরোধ করা জামিন অযোগ্য অপরাধ। তিনি বলেন, এই ধরনের দূরভিসন্ধি মূলক চিন্তা করবেন না। বাবরের চক্করে পড়লে এইরকম চিন্তাই মাথায় আসে, তাই বাবর থেকে বেরিয়ে এসে এবার নিজের বাবার প্রতি দায়বদ্ধ হওয়াই ভালো। প্রয়োজনে তিনি বাবর নাম সরিয়ে নিজের বাবার নামে মসজিদ তৈরি করার বার্তা দেন।

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সুস্পষ্ট মত প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে সম্প্রতি জনগণের যে আবেগ তিনি দেখেছেন তাতে রাজ্যের মানুষের মত অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁর কথায়, এই ধরনের জনমত দেখেই নেতৃত্ব আগামী পথ নির্ধারণ করছে এবং পুরো ভোটে বিরোধীরা যোগ্য জবাব পাবে বলেই তার ধারণা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *