Suvendu, BJP, Madrasa, পশ্চিমবঙ্গের সব মাদ্রাসায় নাকি তালা ঝুলতে চলেছে? কী পদক্ষেপ করছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার

আমাদের ভারত, ৩ নভেম্বর: খুব তাড়াতাড়ি কি পশ্চিমবঙ্গের সব মাদ্রাসায় তালা ঝুলতে চলেছে? হ্যাঁ এই প্রশ্ন ও এই প্রশ্নকে ঘিরে নানা বিষয়ের গুঞ্জন এখন রাজ্যের আনাচে কানাচে শোনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই মাদ্রাসা কমিশন তুলে দিয়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে এটিকে মিলিয়ে দিয়েছে শুভেন্দু সরকার। একই সঙ্গে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে এবার থেকে মাদ্রাসায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই নিয়োগ হবে।

তারপরেই উত্তরবঙ্গে গিয়ে একটি জনসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল জেলাগুলিতে অবৈধ মাদ্রাসাগুলিকে আর চলতে দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও দেশ বিরোধী কার্যকলাপ রোধ করতে কোনো অবৈধ বা সরকারি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা যাতে না থাকে সে বিষয়ে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের সমীক্ষায় ২৩৯৬টি মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন নেই বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১০০টি মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে।

তবে এতকিছুর পরে রাজ্য সরকারের যে পদক্ষেপ করে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তা হল (NCPCR)। জাতীয় শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনের দেওয়া চিঠি ও পরামর্শ অনুযায়ী সরকারের মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ।

২০২৪- এ NCPCR দেশের বিভিন্ন রাজ্যে একটি সমীক্ষা চালায়। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের প্রতিটি শিশুকে তার মৌলিক অধিকার, শিক্ষার অধিকার সঠিক ভাবে পাচ্ছে কি না তা দেখা। কমিশন সমীক্ষা চালাতে গিয়ে মাদ্রাসার অবস্থা দেখে অবাক হয়ে যায়। কমিশন দেখে যে হাজার হাজার ছেলে- মেয়ে যারা মাদ্রাসায় পড়ে তারা বুনিয়াদি শিক্ষা থেকে বহু দূরে পরে আছে। মাদ্রাসাতে বিজ্ঞান, অংক, সামাজিক বিজ্ঞান এবং ইংরেজি’র মত বিষয়গুলি পড়ানোই হচ্ছে না। এখানে শিক্ষার নামে কেবলই ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। NCPCR জানায় যে, মাদ্রাসাগুলিতে শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে খেলা চলছে। কমিশন জানতে পারে যে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে মাদ্রাসায় পড়ুয়াদের বাবা- মাকে অন্ধকারে রেখে এই ধরনের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে বড় করে তোলা হচ্ছে। তারা জানেই না যে তাদের সন্তানদের কী পড়ানা হচ্ছে। ২০২৪- এ এই সমীক্ষার পরেই NCPCR প্রত্যেকটি রাজ্যের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীকে ২০২৪- এর ডিসেম্বরে চিঠি লিখে জানায় যে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাদ্রাসায় যে সরকারি অনুদান দেওয়া হয় তা বন্ধ করে দেওয়া দরকার। কমিশনের যুক্তি ছিল যে, সরকারি অনুদানের টাকা করদাতাদের টাকা থেকে পাওয়া যায়, সেই টাকায় দেশের শিশুদের এমন শিক্ষায় বড় করা উচিত যাতে তারা ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল বা একজন সফল নাগরিক হতে পারে। ভালো পেশায় যেতে পারে। পূর্বতন তৃণমূল সরকার নিজের তোষণ নীতি বজায় রাখতে এই চিঠিকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার এসেই এই চিঠি অনুযায়ী নিজের পদক্ষেপ করেছে। যা কিনা তোষণ মূলক রাজনীতির মুখের উপর কড়া জবাব।

শুভেন্দু অধিকারী সরকার সমস্ত মাদ্রাসাকে সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সব অনুদানের হিসাবে দিতে বলেছে। সব মাদ্রাসায় নিয়মমাফিক অডিট হবে। এক্ষেত্রে যেখানেই গড়মিল থাকবে সেই মাদ্রাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। শোনা যাচ্ছে সেই মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বা মাদ্রাসাটিকে সাধারণ স্কুলে পরিবর্তিত করে দেওয়া হতে পারে।

অসম, হিমাচল, উত্তর প্রদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও মাদ্রাসা নিয়ে নতুন বিজেপি সরকার প্রত্যাশা মতোই পদক্ষেপ করছে বলে মনে করেছেন অনেকে। তবে সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে মাদ্রাসার মৌলবীদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। এমনকি বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি হুঁশিয়ারিও এসেছে বলে জানাগেছে। তবে এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী নিজের সিদ্ধান্তে যে অটল থাকবেন তা জনসভায় তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *