আমাদের ভারত, ১৯ আগস্ট: অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে জঙ্গি নিয়োগ করছে আল কায়েদা ভারতে সহ সংলগ্ন দেশে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের ৬টি জেলায় এই জঙ্গি সংগঠন নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে বলে খবর গোয়েন্দাদের কাছে।
সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজার ও নোদাখালি থেকে তেলেঙ্গানা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ তল্লাশিতে গ্রেপ্তার হয় দুই জঙ্গি। তাদের জেরা করে মারাত্মক তথ্য উঠে এসেছে। জানাগেছে, এই জঙ্গিদের হ্যান্ডেলার রয়েছে পাকিস্তানে। কিভাবে নেটওয়ার্ক বাড়ানো হবে সেই নির্দেশ আসে পাকিস্তান থেকে। ওই দু’জনের মোবাইল থেকে হ্যান্ডেলারদের নাম জানার চেষ্টা চলছে।
আরো জানাগেছে, গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে আকিসের সদস্যদের বাছাই করা হতো। একাধিক গেমিং অ্যাপে যোগ দেয় জঙ্গিদের লিঙ্ক ম্যানরা। গেম খেলার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নজরে থাকে অ্যাপের সদস্যদের উপর। তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজন তরুণ ও যুবকের সঙ্গে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে যোগাযোগ করা হয়। অ্যাপে কল করে কথা বলে তাদের মগজ ধোলাই করা যায় কি না তা বোঝার চেষ্টা হয়। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে তাদের যোগ করিয়ে মগজ ধোলাই শুরু হয়। দেখা গেছে, মগজ ধোলাইয়ের অঙ্গ হিসেবে জাতীয় সঙ্গীত বা জাতীয় গানের নকল করে প্যারোডি বানিয়ে শোনানো হয়। সেই অ্যাকাউন্টের সদস্যদের আবার আল কায়েদা ও আইএসএ’র স্বপক্ষে বেশ কিছু যুদ্ধের ভিডিও এমনকি লাদেনের ভাষণও শোনানো হয়। আবার ভারতের জাতীয় পতাকা মর্ফ করে আইএস- এর পতাকায় পরিণত করা হয়। দেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়। পাকিস্তানে ভারতের জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে অবমাননা করে তার ভিডিও তারা আপলোড করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। গোয়েন্দাদের মতে, পাক চর সংস্থা আইএসআই’য়ের বিশেষ শাখা এই কাজে নিযুক্ত। তারাই বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে এই ভিডিওগুলি সরবরাহ করে। সেগুলি আবার আকিস- এর মত জঙ্গি সংগঠন গুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে।
মাস কয়েক আগে বাংলার বাঁকুড়া সহ দেশের সাতটি রাজ্যে তল্লাশি চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করার পর ভারতীয় উপমহাদেশে আল কায়েদা বা আকিসের পাকিস্তানি হ্যান্ডেলার আল হাকিম শুকুরের নাম গোয়েন্দারা জানতে পেরেছিলেন।এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় থেকে জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে টুটুল বেগ, নোদাখালি থেকে মহম্মদ রফিক শেখ’কে গ্রেফতার করার পর শুকুর পাকিস্তান থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল কি না তা জানার চেষ্টা চলছে।
গোয়েন্দাদের দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া ও বীরভূমের মতো আরো পাঁচটি জেলায় আকিস নেটওয়ার্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে। এর আগে অফিসের সদস্যদের অভিযোগে বাঁকুড়ার খাতরা থেকে মির আসিফ আলিকে গ্রেফতার করা হয়। এবার বাঁকুড়া সহ অন্য জেলাগুলিতে আকিসের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরো জানতে তদন্ত চলছে।
কয়েক মাস আগে অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়বাড়া থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল মহম্মদ রহমতুল্লাহ শরীফ, মির্জা সোহেল বেগ ও মহম্মদ দানিস নামে তিন যুবক। তারা জঙ্গি নিয়োগের জন্য আল মালিক ইসলামিক ইয়ুথ নামে একটি গ্রুপ তৈরি করে। এবারও পাক জঙ্গিদের হাতে তৈরি ফেসবুকে মুঘলে আজম ও জিহাদি সাবিলিল্লাহ নামে দুটি অ্যাকাউন্ট গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। জঙ্গি নিয়োগের জন্য তৈরি এরকম আরো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট গ্রুপের সন্ধান চলছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

