ইদের মেলা দেখে ফেরার পথে টিটাগড়ে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন যুবক

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৬ মে: ইদের মেলা দেখে ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হলেন এক যুবক। ১ লাখ টাকা তোলা চেয়ে না পেয়ে যুবককে খুন করার অভিযোগ উঠলো স্থানীয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
টিটাগড় পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত টিটাগড় স্টেশনের ১০ নম্বর রেলগেটের কাছে গাজী বাবার মাজার এলাকার বাসিন্দা সেলিম সাহাজি (১৮)। ওই যুবককে গতকাল রাতে গুলি করে খুন করার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ওই এলাকায়। গতকাল সন্ধে বেলা সেলিম তার বন্ধুদের সাথে মোরোল পাড়ার ইদের মেলাতে যায়। রাতে বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় তার বাবা তাকে ফোন করলে সেলিম জানায় সে বাড়ি আসছে। তারপর সে বাড়ি ফিরে না আসায় চিন্তিত হয়ে পড়ে বাড়ির লোকজন। এরপর তার বাড়ির সামনে স্টেশনের কাছে সেলিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা। সেলিমের বাড়িতে খবর দেওয়া হলে তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সেলিম।

এরপর এলাকাবাসীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে ব্যারাকপুরের বিএন বসু মহাকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সেলিমের
পিঠে গুলি করার চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে খবর।

মৃতের বাবা সোমর শাহাজির সন্দেহ ইসমাইল, সোনু ও মনু নামের তিন স্থানীয় কুখ্যাত দুষ্কৃতীরা এই কাজ করেছে। এই দুষ্কৃতীদের নামে খুনের অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবারের লোকজন। সূত্রের খবর, এরা টিটাগড় নয়াবস্তির বাসিন্দা। এরা সেলিমের বাবা সমরের কাছে ১ লাখ টাকা তোলা চেয়েছিল, কিন্তু ১ লাখ টাকা দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। টাকা
না দেওয়ায় সমরকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এদিন মৃতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন,
“সেলিম বন্ধুদের সাথে মেলা দেখতে গেছিল। ওর বন্ধুরা রাতে বাড়ি ফিরে গেলেও আমার ছেলে ফিরে আসেনি। তারপর বাড়ির সামনে ছেলের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখি। কিছুদিন আগেই আমার কাছে তোলা চেয়েছিল দুষ্কৃতীরা। কিন্তু আমি তা দিতে না পারায় আমার ছেলেকে খুন করেছে ওরা।”

এই খুনের ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা। তাদের বক্তব্য, “এই ঘটনায় প্রচন্ড ভয় পাচ্ছি আমরা। শান্তি চাই আমরা। আমাদের এখানকার শান্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আবেদন প্রশাসন এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। এই এলাকায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর ব্যবস্থা করুক পুলিশ।” গোটা ঘটনায় রহড়া থানার পুলিশ তদন্তে নেমেছে। এই ঘটনায় দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞেসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *