ওমিক্রনের চোখরাঙানি, ঊর্ধ্বমুখী করোনার গ্রাফ, নতুন বছরেই কলকাতায় ফিরছে কনটেইনমেন্ট জোন জানালেন মেয়র

আমাদের ভারত, ৩১ ডিসেম্বর: ঊর্ধ্বমুখী কোভিড সংক্রমনের সাথে ওমিক্রনের চোখ রাঙানি। তাই নতুন বছরেই শহরে ফিরছে কনটেইনমেন্ট জোন। ৩ জানুয়ারি থেকেই কলকাতায় নতুন করে চালু হচ্ছে মাইক্রো কনটেইমেন্ট জোন। এমনটাই জানিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

ক্রমেই কলকাতায় বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। শুক্রবার সাংবাদিকদের মেয়র বলেন, যদি কোনও এলাকায় পাঁচজন করোনা পজিটিভ রোগীর খোঁজ মেলে তাহলেই সেই এলাকাকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, কলকাতার কোনও আবাসনের কোনও ফ্ল্যাটে যদি করোনা আক্রান্তের খোঁজ মেলে তবে পুরো নিগমের পক্ষ থেকে গোটা
আবাসনকে জীবাণুমুক্ত করা হবে। লিফটে স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ইতিমধ্যেই শহরের ১১টি এলাকাকে মাইক্রো কনটেইমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলেছে কলকাতা পুরসভা। সেই বিষয়টি পুরসভার তরফে নবান্নকে জানানো হয়েছে। কনটেইনমেন্ট জোনগুলিতে ক্লাব, সুইমিংপুল, শিশু উদ্যান, জিম বন্ধ থাকবে। ফিরহাদ হাকিম আরো জানিয়েছেন, জ্বর সর্দি কাশি হলেও কলকাতার ৮০% করোনা রোগী উপসর্গহীন। মাত্র কুড়ি শতাংশের উপসর্গ রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র তিন শতাংশ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে হাসপাতালে কোভিড বেড এবং সেফহোমের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুরনিগম পরিচালিত সেফহোমগুলি বেশিরভাগ বন্ধ করে দেওয়া হলেও আবার সেগুলি চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে কোভিডের বেড সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে মোট বেডের ৩০% কোভিডের জন্য বরাদ্দ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ৬০% বেড প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। করোনা রোগীর পরিষেবায় স্বাস্থ্য কর্মীদের পুনরায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। একইসঙ্গে করোনা চিকিৎসার সরঞ্জাম ও ওষুধ এক সপ্তাহের মধ্যে মজুদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পৌরনিগমের কর্মীদের উদ্দেশ্যে মেয়রের পরামর্শ পুরো নিগমের কোনও কর্মীর জ্বর সর্দি কাশি হলে পাঁচ দিনের মাথায় একবার টেষ্ট করে রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তারা কাজে যোগ দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *