ওমিক্রনের হাত ধরে তৃতীয় ঢেউয়ের সম্ভাবনা! রাজ্যকে সতর্ক করে ওয়ার রুম খোলা সহ একাধিক গাইডলাইন কেন্দ্রের

আমাদের ভারত, ২২ ডিসেম্বর:ভারতে কোভিড সংক্রমণের সংখ্যা কমছে। কিন্তু তার সঙ্গে ঝড়ের গতিতে বাড়ছে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা। ডেল্টা ভেরিয়েন্টের তুলনায় প্রায় তিনগুণ ক্ষমতা সম্পন্ন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে। এই মুহূর্তে ভারতে ওমিক্রন সংক্রমিত সংখ্যা ২০০। আর তাতেই কপালে ভাঁজ পড়েছে কেন্দ্র সরকারের। ফলে রাজ্যগুলিকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একেবারে নেমে যাওয়া কোভিড গ্রাফ হঠাৎ করেই বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ওমিক্রনের হাত ধরে করোনার সংক্রমনের তৃতীয় ঢেউ দেশে আসতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলিকে সর্তক করে চিঠি পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিটি রাজ্যের ওয়ার রুম খোলার জন্য বলা হয়েছে। যতই কম সংখ্যক ওমিক্রন আক্রান্ত হোক তার দিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে। তার জন্য জেলা ও ব্লক স্তরের অতিসক্রিয়তার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে ডেল্টার তুলনায় ওমিক্রনকে তিনগুণ সংক্রামক বলে মনে করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ডেল্টা ভাইরাসের অস্তিত্ব রয়েছে তার পাশাপাশি ছড়াচ্ছে ওমিক্রন। তাই সংক্রমণ রোধে জেলাস্তরে কনটেইনমেন্ট জোন তৈরি করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে কড়া বিধি-নিষেধ জারি করার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সার্বিকভাবে নজরদারির ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে রাজ্যগুলিকে। কোভিড পরীক্ষার হার বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুঁজে বার করার কথা বলা হয়েছে রোগীদেরকে। প্রয়োজনে এলাকাগুলিকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। টিকাকরণের কাজ লাগাতার চালিয়ে যেতে হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী এই মুহূর্তে দেশে ২০০ ওমিক্রন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। তার মধ্যে ৫৪ জন আক্রান্ত রয়েছেন মহারাষ্ট্র দিল্লিতে। তেলেঙ্গানায় ২০ জন। কর্নাটকে ১৯ জন। রাজস্থানে ১৮, কেরালায় ১৫ এবং গুজরাতের ১৪ জন ওমিক্রন সংক্রমিতের সন্ধান পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব প্রয়োজনে নাইট কারফিউ লাগু করার পরামর্শ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন রাজ্যগুলিকে যেকোনো রকম জমায়েত করতে দেওয়া উচিত নয় ।বিয়ে বা শেষকৃত্যের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে আবারও রাশ টানা দরকার বলে জানান তিনি। গণপরিবহনের ক্ষেত্রেও যাত্রীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের আনা, সরকারি বা বেসরকারি অফিসে কর্মীসংখ্যা কম করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কনটেইনমেন্ট জোন করার ক্ষেত্রে বাফার জোন রাখার কথাও বলেছেন তিনি। সেই সব ক্লাস্টার থেকে মানুষের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে বাধ্যতামূলকভাবে জিনোম সিকোয়েন্সের জন্য পাঠাতে বলা হয়েছে। রাজ্যগুলিকে স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করার দিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সরবরাহ, ওষুধের যোগান ইত্যাদি বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে রাজ্যগুলিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *