Suvendu, BJP, ১ নম্বর তোলাবাজ! কান টানলে মাথা আসবে, সুমিত রায় গ্রেপ্তার হতেই অভিষেককে নিশানা সুকান্ত শুভেন্দুদের

আমাদের ভারত, ১০ সেপ্টেম্বর: সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ তুলে নিতেই বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। আগামীকাল তাকে মেদিনীপুর আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবেন আধিকারিকরা। সুমিত রায়ের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সহ বিজেপির একাধিক নেতৃত্ব তাদের মতামত জানিয়েছেন। সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, কান টানলে মাথা আসে। এবার মাথা আসার অপেক্ষা।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছেন কান টানলে মাথা আসবে। সুমিতের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিন নাকোচ হবার পরেই সুমিত রায় গ্রেপ্তার হবে এটা স্বাভাবিক ছিল। কারণ অভিষেকের হয়ে সমস্ত কাজ সেই’ই করত। ডিএম প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সকলকে ফোন এই সুমিত করত। পুরো সরকারটাই তো সে চালাতো। নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হয়েছে ঠিকই তবে সবে তো কান এসেছে। এরপর মাথা আসবে। মাথাতো ক্যামাক স্ট্রিটে বসে আছে।

সুমিত রায়ের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এই রাজ্যের একজন প্রসিদ্ধ তোলাবাজ সুমিত রায়। সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ তুলে নিয়েছে। তোলাবাজ ভাইপোর এক নম্বর কালেক্টর হলো এই সুমিত রায়। তাকে সিআইডি গ্রেফতার করেছে।

বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, এটার অপেক্ষাতেই ছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ তুলতেই সিআইডি সুমিত রায়কে তুলেছে। পোষ্য গ্রেফতার হয়েছে, প্রভু কবে গ্রেপ্তার হবে সেই অপেক্ষায় আছে বাংলা। মানুষ তাকে দেখতে চায় জেলের মধ্যে সেদিন আসল উৎসব হবে।

সুমিত রায়কে হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন, কারণ বারবার তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সব প্রশ্নের উত্তর মিলছিল না বলে দাবি করেছিলেন সিআইডি আধিকারিকদের। তার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ায় তিনি ফের আত্মগোপন করতে পারেন এমন আশঙ্কাও ছিল সিআইডির। ফলে রক্ষা কবচ উঠতেই তড়িঘড়ি এই গ্রেফতারি।

গ্রেপ্তারির সময় কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতেই ছিলেন আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ উঠতেই সুমিতের খোঁজে তৎপর হয়ে ওঠে সিআইডি। আজ বেলা থেকেই অভিষেকের বাড়িতে হাজির ছিলেন আধিকারিকরা। ঘিরে ফেলেছিলেন এলাকা। এর আগে ভবানী ভবনে ১১বার তলব করা হয়েছে তাকে। সুমিত রায় এবার যাতে কোনভাবে পালাতে না পারেন সে কারণে কড়া নজরদারি রেখেছিলেন। বেঙ্গলি এসটিএফের দল ১১৯ নম্বর কালীঘাট রোডের বাড়ির ঠিকানা ছিল সুমিতের। আজ সকালে ১২১ নম্বর কালিঘাট রোডে অভিষেকের বাড়িতে ঢুকতেই খানিকক্ষণ এর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় সুমিতকে।

শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে। মোট চারজনের নাম রয়েছে তাতে। আগেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলা প্রাক্তন সভাপতি সুজয় হাজরা ও আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই মামলাতেই গ্রেপ্তার করা হলো সুমিত রায়কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *