আমাদের ভারত, ১৭ জুলাই: রাজ্যে পালা বদলের পর থেকেই দলবদলের পালা চলছে লাগাতার। এই বিষয়ে বিরোধীরা বার বার শাসক দলের সমালোচনায় সরব। কিন্তু কেন এই দল বদলকে মেনে নিচ্ছে বিজেপি আজ বাগডোগরা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবারও স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
দল বদলে বিজেপিতে যোগদানের প্রসঙ্গে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় সুকান্ত মজুমদার জানিয়ে দিলেন, একদম নিচের তলায় কোনো দলবদল বরদাস্ত করা হবে না। শিলিগুড়িতে অন্য দল থেকে কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না। যারা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে দলে আসতে চাইছেন তাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভালোভাবেই জানেন। দেশের স্বার্থে মহিলা সংরক্ষণ জরুরি। দেশের বড় স্বার্থের জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে হয়। এতে সাময়িকভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপিতে ক্ষতি হবে। কিছু মানুষ বিক্ষুব্ধ হবে, কিন্তু বিজেপির কাছে দেশ আগে, তারপর দল।
তাঁর মতে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং মহিলা সংরক্ষণের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে অনেক সময় ওপর তলার কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কারণ বিজেপির মূলনীতি হল প্রথমে দেশ, তারপর দল। ফলে হয়তো সাময়িক কিছু সমস্যা হতে পারে দলে, কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে এইরকম ছোটখাটো ক্ষতি মেনে নিতে হয়।
অন্যদিকে গতকাল ফেসবুক লাইভে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, যারা দল ছাড়তে চান তারা একুশে জুলাই- এর আগেই যেন চলে যান। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, সবাই দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে, এই দুঃখ এবং হতাশা থেকেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। আমি তো আগেই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলাম, যেদিন হারবেন সেদিন তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ভাইপো ছাড়া আর কেউ থাকবে না। সেটা মিলে যাচ্ছে।
এদিকে আজ দেশে প্রথমবার দূষণমুক্ত হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের যাত্রা শুরু। যা ভারতীয় রেলের ইতিহাসে একটি মাইল ফলক। এছাড়াও দেশজুড়ে আজ ৯০টিরও বেশি (তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ২৫টি) অমৃত ভারত স্টেশনের আধুনিকীকরণের উদ্বোধন হতে চলেছে। এই দুই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও রেল মন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বেই আজ ভারতীয় রেলের এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। রেলের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের মত কাজ আগে আর কোনো সরকার করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

