আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৭ জুলাই: তাঁতঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হলেন সমবায় সমিতির ম্যানেজার। বছর পাঁচ- সাতেক আগে গ্রামের তাঁতিদের কাছ থেকে ওই টাকা নিয়েছিলেন তিনি। সেই টাকার সিংহভাগ ফেরত পেয়ে খুশি তাঁত শিল্পীরা। তবে অবশিষ্ট টাকাও ফেরতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের তেঁতুলিয়া নতুনগ্রাম তন্তুবায় কো-অপারেটিভ সমবায় সমিতিতে।
জানাগিয়েছে, ওই সমিতির পূর্বতন আধিকারিকরা সমিতির সদস্য অর্থাৎ তাঁত শিল্পীদের তাঁতঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে তাদের কাছ থেকে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা করে অগ্রিম কাটমানি নিয়েছিলেন বলে শিল্পীদের দাবি। কিন্তু কোনো তাঁত শিল্পীই বাড়ি পাননি। এনিয়ে শিল্পীরা একাধিকবার সমবায়ে দরবার করেছেন। কিন্তু ঘর পাওয়া তো দূরের কথা, হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের।

সরকার পরিবর্তনের পর শিল্পীরা কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। তাঁদের সঙ্গ দেন বিজেপির বিষ্ণুপুর মণ্ডল সভাপতি প্রান্তিক দাস। আন্দোলনের ফলে শুক্রবার ৫০ জন শিল্পীকে তাঁদের সিংহভাগ টাকা ফেরত দেন সমবায়ের বর্তমান ম্যানেজার অশোক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “বছর পাঁচ– ছয়েক আগে তাঁতঘর তৈরি করে দেওয়ার নামে শিল্পীদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছিলাম। সেই টাকা তৎকালীন আধিকারিক গোপাল চন্দ্র আলিপাত্রের কাছে জমা দিয়েছিলাম। উনি ঘর না দিয়েই অবসর নিয়ে চলে যান। তারপর আমরা তার কাছে টাকা চাইতে গেলে ওই আধিকারিক জানান টাকা দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। অবশ্য শিল্পীদের কাছেও কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে চাপে পড়ে আমি ঋণ করে ৫০ জন শিল্পীকে টাকা ফেরত দিলাম।”
নতুনগ্রামের বাসিন্দা রামকৃষ্ণ প্রামাণিক বলেন, “আমরা তাঁত বুনে সংসার চালাই। বছর পাঁচ- ছয়েক আগে ম্যানেজার আমার কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছিল তাঁতঘর দেওয়ার নাম করে। কিন্তু ঘর দেয়নি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা টাকা ফেরতের দাবি জানাই। এদিন আমাকে তিন হাজার টাকা দিয়েছে। বাকি টাকার ‘ডিউ স্লিপ’ ধরিয়েছে। দীর্ঘদিন পর টাকা ফেরত পেয়ে ভালো লাগছে। আমরা গরিব মানুষ। ওই টাকা আমাদের অনেক কাজে লাগবে।”
একই গ্রামের বাসিন্দা দেবাশিস প্রামাণিক তাঁতঘরের জন্য দিয়েছিলেন ন’হাজার টাকা। এদিন তার হাতে ছয় হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। বাকি টাকার ডিউ স্লিপ দেওয়া হয়েছে বলে জানান দেবাশিসবাবু। তিনি বলেন, “তৃণমূলের আমলে দিয়েছিলাম। ঘর না পাওয়ায় বিজেপির আমলে টাকা ফেরত পেলাম।”
বিজেপির মণ্ডল সভাপতি প্রান্তিক দাস বলেন, “তৃণমূলের আমলে তাঁতঘর দেওয়ার নামে শিল্পীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঘর না দিয়ে ওই টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার পর শিল্পীদের নিয়ে টাকা ফেরতের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এরপরেই এদিন তিন হাজার টাকা করে ফেরত দিয়েছে। বাকি টাকা কিছুদিন পর দেওয়া হবে বলে ম্যানেজার কথা দিয়েছেন।”

