আমাদের ভারত, বর্ধমান, ২৫ আগস্ট: বর্ধমান শহরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী অশোক মাঝি খুনের ঘটনায় শহর জুড়ে উত্তেজনা রয়েছে। খুনের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্য গোষ্ঠীর নাম জড়িয়েছে। যদিও এই খুনের ঘটনাকে গোষ্ঠী কোন্দলের ঘটনা বলে মানতে রাজি নন পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়।
বুধবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজের মর্গে তৃণমূল কর্মী অশোক মাঝির দেহের ময়নাতদন্ত হয়। সেখানে তার দেহে মাল্য দান করেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। মর্গে দাঁড়িয়ে জেলা সভাপতি বলেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নয় একটা গন্ডগোল দুদিন ধরে চলছিল। এরপর এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। পুলিশ তদন্ত করছে। যেই যুক্ত থাকুক না কেন কেউ ছাড়া পাবে না।
এদিন বিকেলে অশোক মাঝির মরদেহ বাড়ির এলাকায় যেতেই হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।
মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ ৬ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৈয়দ মহম্মদ সেলিমের উপর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্য গোষ্ঠী লাঠি রড নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করা হয়। সেই সময় তাকে বাঁচানোর জন্য ছুটে যান তৃণমূল কর্মী অশোক মাঝি ও তার স্ত্রী চন্দনা মাঝি। তাদের মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতা শিবশংকর ঘোষের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। অশোক মাঝিকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মঙ্গলবার রাতে অশোক মাঝির মৃত্যু হয়। এরপরেই ক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে রাস্তা অবরোধ করে।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৈয়দ মহাম্মদ সেলিমের অভিযোগ, এলাকার অন্য তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা শিবশংকর ঘোষ সব সময় সমাজবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের এলাকায় অশান্তি করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার নেতৃত্বেই আমার উপরে হামলার চেষ্টা করা হয়। আমায় বাঁচাতে গেলে অশোক মাঝি ও তার স্ত্রী চন্দনা মাঝিকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করে শিবশংকর ঘোষের লোকজন। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অশোক মাঝির মৃত্যু হয়। চন্দনা মাঝি গুরুতর আহত। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা শিবশংকর ঘোষ।
এদিকে তৃণমূল নেতা মহম্মদ সেলিম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে খুনের অভিযোগ তুললেও সেকথা মানতে নারাজ জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘সেটা তার ব্যক্তিগত মত। তবে অশোক মাঝি তৃণমূল কর্মী ছিলেন। এখন বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। দোষীরা কেউ ছাড়া পাবে না। এছাড়া আমাদের দলের মধ্যে বেশ কিছু বিজেপির লোক ঢুকে বসে আছে। তারা এই রাজ্যকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। আমাদের কর্মীরা সেই ফাঁদে পা দিচ্ছে। বিষয়টা নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।’

