অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রর পোস্টে সাড়া দিয়ে কুকুরের বাচ্চা দত্তক নিয়ে বিপত্তি, মার খেলেন রেড ভলান্টিয়ার

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৫ আগস্ট: অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রর পোস্টে সাড়া দিয়ে কুকুরের বাচ্চা দত্তক নিয়ে পরবর্তীতে সেই কুকুর ছানা মারা যাওয়ায় মার খেতে হল আড়িয়াদহর বাসিন্দা শশাঙ্ক ভাবসারকে। পিপলস ফর অ্যানিমেলসর সদস্যদের হাতে মার খাওয়ার অভিযোগ তুললেন রেড ভলান্টিয়ার শশাঙ্কবাবু।

অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র শর্ত রেখেছিলেন তার থেকে কেউ যদি কুকুরের বাচ্চা দত্তক নেয় তাহলে তিনি তার সাথে চা চক্রে যোগ দেবে এবং তাতে সাড়া দিয়ে আড়িয়াদহের বাসিন্দা শশাঙ্ক ভাবসার নামে একজন রেড ভলান্টিয়ারের সদস্য গত এক মাস আগে শ্রীলেখা মিত্রর থেকে একটি কুকুরের বাচ্চা দত্তক নেন। সেই শর্ত অনুযায়ী শ্রীলেখা মিত্রর সাথে চা চক্রে যোগ দেন। কিন্তু গত চার দিন আগে দত্তক নেওয়া সেই কুকুরের বাচ্চা হঠাৎ করে শশাঙ্কর বাড়ি থেকে রাস্তায় বেরিয়ে যায়। রাস্তার অন্যান্য কুকুরে কামড়ে ধরে দত্তক নেওয়া বাচ্চা কুকুরটিকে। আর সেই কামড়ে কুকুরের বাচ্চাটি মারা যায়।

পিপল ফর অ্যানিমেলসের সদস্যদের অভিযোগ,
শশাঙ্কবাবু শুধু মাত্র শ্রীলেখা মিত্রর সাথে চা চক্রে যাবেন বলে অভিনেত্রীর ফেসবুক পোস্টে সাড়া দিয়ে কুকুরের বাচ্চা দত্তক নেন এবং সেই বাচ্চাটির সঠিক যত্ন নেননি তাই মারা গেছে কুকুরের বাচ্চাটি। বুধবার এই অভিযোগ তুলে পিপেট ফোরামের সদস্যরা আড়িয়াদহে শশাঙ্কবাবুর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায়। অপর দিকে শশাঙ্ক বাবুর অভিযোগ, তাকে বাড়ি থেকে ডেকে বার করা হয় এবং শশাঙ্ক বাড়ি থেকে বেরনোর পর সেই ফোরামের সদস্যরা শশাঙ্ক বাবুকে ঘুসি চড় লাথি মারতে শুরু করে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরপর দুই তরফ থেকে বেলঘড়িয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনায় আহত হয় শশাঙ্কবাবু।

পিপলস ফর অ্যানিমেলসের সদস্যরা বলেন, “শ্রীলেখা মিত্রর সাথে চা খেতে যাবেন বলে আমাদের সংস্থার থেকে কুকুর দত্তক নিয়েছিলেন শশাঙ্কবাবু। আর সেই কাজ মিটতেই কুকুরের বাচ্চা টিকে অবহেলা করা হল আর বাচ্চাটি মারা গেল। এই ঘটনা নিয়ে আমরা আজ থানায় অভিযোগ করলাম।”

অপর দিকে এদিন রেড ভলান্টিয়ার শশাঙ্ক বাবু অভিযোগ করে বলেন, “আমি শ্রীলেখা মিত্রকে আগে থেকেই চিনতাম। ওনার পোস্টটা আমার ভালো লাগে কারণ একটা কুকুরের বাচ্চাকে দত্তক নেওয়া ভালো কাজ তাই নিয়েছিলাম। কিন্তু অভিনেত্রীর সাথে চা খাওয়ার জন্য সেটা করিনি। এটা ভুল কথা। কিন্তু কুকুরের বাচ্ছাটি মারা যায় সেটার জন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু এর জন্য আমায় রাস্তায় এনে মারধর করা হয়েছে। আমায় সোশ্যাল মিডিয়াতে অপমান করা হয়েছে। তাই আমি এই পুরো বিষয়টা পুলিশে জানিয়ে এসেছি।” তবে এই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেলঘরিয়া থানা পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *