Modi, BJP, Cabinet, মোদী মন্ত্রিসভা থেকে বাদ যেতে পারেন নির্মলা- রাজনাথ- হরদীপ- ধর্মেন্দ্ররা, গুরুত্ব পাবে শরিক সহ কম বয়সীরা

আমাদের ভারত, ৮ জুলাই: নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন হতে চলেছে। বেশ কয়েকজনকে মন্ত্রীত্ব থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে খবর। আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু। মনে করা হচ্ছে তার আগে নতুন মন্ত্রীরা শপথ নেবেন।

বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাদের সাংসদদের পরিচয় করিয়ে দেবেন বলে সরকারি মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে। জানাগেছে, মন্ত্রিসভায় কম বয়সীদের বেশি করে সুযোগ করে দেওয়া হবে। আসন্ন রদ বদলের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য বিজেপি সভাপতির বয়সও ৪৬।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছে ৫০- এর আশপাশে বয়স, এমন নেতাদের মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা।

আগামী বছর উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন। ২০২৯- এ লোকসভা ভোট। ২৯- এ ভোটের জন্য উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতা ধরে রাখা বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দল মনে করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরতে কেন্দ্রীয় সরকারকেও সমান ভাবে ভালো কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। সেই লক্ষ্যে কম বয়সীদের মন্ত্রিসভায় আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে খবর।

রদবদলে যে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা বাদ পড়তে চলেছেন তার মধ্যে অন্যতম অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। রাজনাথ সিং প্রধানমন্ত্রীর সমবয়সী। ২০১৪ থেকে টানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। এর আগে তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। তার ক্ষেত্রে আরো একটি বিষয় বিবেচনায় রয়েছে, উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে তার দুই ছেলে এখন অত্যন্ত সক্রিয়। বড় ছেলে রাজ্যের বিধায়ক, ছোট ছেলে উত্তরপ্রদেশ বিজেপির সহ- সভাপতি। রাজনাথ সিংকে নিয়ে যাতে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ না ওঠে সেই কারণে এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তার জায়গায় কে আসছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে নির্মলা সীতারমনকে সাংগঠনিক কাজে দক্ষিণ ভারতের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তার জায়গায় নতুন অর্থমন্ত্রী হতে পারেন শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল অথবা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গর্ভনর শক্তিকান্ত দাস। পেট্রোলিয়া মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীকেও বয়সের কারণে মন্ত্রীত্ব থেকে সরানো হতে পারে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর শক্তি কান্ত দাসকে মন্ত্রিসভায় আনার ভাবনা রয়েছে। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে।

তবে আসন্ন রথ বদলে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সংখ্যায় মন্ত্রীকে বাদ দেওয়ার ভাবনার অন্যতম কারণ বিজেপির নতুন শরিক দল। রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির যে ১০ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম রাঘব চড্ডা। তাকে মন্ত্রিসভায় আনার ভাবনা রয়েছে। মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ভেঙে ৬ এমপি যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আরো একজনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার দাবি আছে। আবার শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের দলত্যাগী এমপিদের মধ্যে থেকেও মন্ত্রিসভায় নেওয়ার ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নিট কেলেঙ্কারির দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছে কংগ্রেস ও বিরোধী দল। যদিও এই কারণে তাকে মন্ত্রীসভা থেকে সরানোর ভাবনা দলের এখনো নেই। তবে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী বদলের একটি ভাবনা বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব বিবেচনা করছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মোহাষন মাঝির কাজকর্ম নিয়ে নেতৃত্ব সন্তুষ্ট নয়। মাঝিকে সরিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফলে শিক্ষামন্ত্রী কে হবেন তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। যেহেতু কম বয়সীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে সেক্ষেত্রে ওই দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে নিয়েও ভাবনা চিন্তা থাকার সম্ভাবনা যে নেই তা বলা যায় না। একই সঙ্গে তিনি অধ্যাপক হবার ফলে শিক্ষা জগতের সঙ্গে তার জরিয়ে থাকাও বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *