আমাদের ভারত, বীরভূম, ৮ জুলাই: তারাপীঠের রথযাত্রা পেল রাজ্যের ঐতিহ্যের সম্মান। কারণ তারাপীঠের রথযাত্রার মাহাত্ম্যই আলাদা। বলা যেতে পারে, তারাপীঠের রথযাত্রা এক অনন্য এবং ব্যতিক্রমী ঐতিহ্যবাহী উৎসব।

সনাতন ধর্মে সাধারণত জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে অধিষ্ঠান করিয়ে ভারত তথা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়। কিন্তু তারাপীঠে তারা মা-ই জগন্নাথের প্রতিভূ। একাধারে তিনিই কালী, অন্যদিকে তিনিই কৃষ্ণ। সোজা রথ থেকে উল্টো রথ, দুই পর্যায়ের রথেই মা তার অধিষ্ঠিতা হন। সাধারণত দেশ জুড়ে রথযাত্রায় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পূজা করা হলেও, তারাপীঠে মা তারাকেই জগন্নাথের প্রতিভূ বা রূপ হিসেবে রথে বসিয়ে পূজা করা হয়। ওই দিন মা তারা রাজবেশে সেজে ভক্তদের দর্শনের জন্য রথে আরোহণ করেন। সনাতন বিশ্বাস অনুসারে, মা তারা হলেন একাধারে কালী ও কৃষ্ণ। রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে তারাপীঠের প্রধান মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে মা তারার চরণ এবং বিগ্রহ বাইরে নিয়ে এসে নিয়মনিষ্ঠা মেনে রথে বসানো হয়।
তারাপীঠের ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, তারাপীঠের রথের প্রথম সূচনা করেন সাধক দ্বিতীয় আনন্দনাথ। সেই সময় কাঠের তৈরি একটি রথে তারা মা-কে বসিয়ে গোটা চণ্ডীপুর গ্রাম (বর্তমানে তারাপীঠ নামে পরিচিত) প্রদক্ষিণ করানো হত। সেই সময় রথের রশিতে টান দিতে স্থানীয় মানুষ ছাড়াও আশপাশের বাসিন্দারাও ভিড় জমাতেন। হরিনাম সংকীর্তন, বিভিন্ন রকমের বাজনা ও জয় তারা ধ্বনি সহযোগে তারা মা-কে রথে চাপিয়ে গ্রাম ঘোরানো হত। পরবর্তীকালে কলকাতার জনৈক আশালতা সাধুখাঁ নামে ভক্ত তারাপীঠে রথ ঘর তৈরি করে দেন।

আনুমানিক ১৯৭০ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে রথ ঘরের উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে পিতলের রথ তৈরি করা হয়েছে। এখন রথটি মন্দিরের আশেপাশের এলাকা পরিক্রমা করে। উলটো রথও একইভাবে তারাপীঠ প্রদক্ষিণ করে মন্দিরে প্রবেশ করেন। কথিত আছে, রথের দড়িতে টান দিলে সকল পাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং তারাপীঠের এই রথযাত্রায় অংশ নিলে অসীম পুণ্য লাভ হয়। রথ হতে মায়ের প্রসাদ হিসাবে বাতাসা, প্যাড়া ছোড়া হয়। সেই প্রসাদ গ্রহণ করতে ভক্তদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পরে যায়।
মন্দিরের বর্তমান সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “জেলা তথ্য সংস্কৃতি দফতর থেকে বিষয়টি জানানো হয়। সেই সঙ্গে মন্দিরের অ্যাকাউন্ট নম্বর চেয়ে পাঠানো হয়। আমরা নতুন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র জমা দেব।”
জেলা তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক অরিত্র চক্রবর্তী বলেন, “মঙ্গলবার কলকাতা থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এসেছে। জেলার তারাপীঠের রথকে একমাত্র সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। সেই মতো আমরা মন্দির কমিটিকে জানিয়ে দিয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠালে আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়ে দেব।”

