Sukanta, BJP, পুলিশকে গুলি ছুড়লে, পুলিশ জয়নগরের মোয়া ছুড়ব? সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ৮ জুলাই: “পুলিশকে কেউ গুলি ছুড়লে, পুলিশ তো আর তার দিকে জয়নগরের মোয়া ছুড়বে না।” বারুইপুর ধর্ষণ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যু প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

তারাপীঠে পুজো দিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারাপীঠ পৌঁছোন সুকান্ত মজুমদার। বুধবার সকালে মা তারার পুজো দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বারুইপুর কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা প্রশাসনিক ব্যাপার। তবে সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি পুনর্নির্মাণের সময় সে নাকি পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের দিকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালাবার চেষ্টা করছিল। স্বভাবিক ভাবেই পুলিশের দিকে গুলি ছুড়লে, পুলিশ তো আর তার দিকে জয়নগরের মোয়া ছুড়বে না। তাতেই ঘটনাটা ঘটেছে হয়তো।

নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ এবং খুন প্রসঙ্গে সুকান্তবাবু বলেন, “এটা চরমতম অপরাধ। আমাদের সরকার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করেছেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, চরমতম শাস্তি দেওয়া হবে। তারপরেও সিপিএমের নেতারা যেভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছেন। আবার সিএএ- র মতো, রেল লাইন তুলে ফেলার মতো কাজ করেছে। একজন হিন্দু তরুণকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে গণপিটুনি দিয়ে মারার ব্যবস্থা করেছেন। এর জন্য সিপিএম দায়ী। সিপিএমের কাজই হচ্ছে লাশের উপর রাজনীতি করা। লায়েক আলিরা সিপিএম বা তৃণমূল যেখানেই থাকুক, এরা একই কাজ করবে। এদের কাজ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করে হিন্দুদের উপর আক্রমণ করা। এরা কখনো সিপিএম, কখনো তৃণমূলের বোরখার তলে লুকোয়। কিছু কিছু এলাকায় ভৌগলিক অবস্থান পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। সেই সমস্ত এলাকায় আইনি সমস্যা হলে হিন্দুদের উপর আক্রমণ হয়। সাম্প্রদায়িক সুরসুরি থেকে হিন্দুদের উপর আক্রমণ হয়। বারুইপুরও তার বাইরে নয়। আমাদের সরকার একমাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে। আগামী দিনে সব সোজা হয়ে যাবে। যারা সাম্প্রদায়িক মানসিকতায় আক্রান্ত তাদের সোজা করার জন্য বিজেপি ভ্যাকসিন আছে।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিজে বাজানো মন্তব্যে আদালতে তার কণ্ঠস্বর দিতে চাইছেন না, এব্যাপারে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, “সম্ভবত গলা খারাপ, গানটান করতে যাবেন আমেরিকায়। বার বার ভিসা চাইছেন। সেই জন্য গলার কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে চাইছেন না। যদি গলা খারাপ হয়ে যায়। এখন তো আর কয়লা, বালি চলছে না, ফলে গান গেয়ে রোজকার করবেন কিনা জানি না। আগে তো উনার দলের অনেকেই গানটান গাইতেন। যেমন সাংসদ সায়নী ঘোষ গানে মদিনা যাওয়ার কথা বলতেন।”

বিরোধীদের আন্দোলনে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে সুকান্তবাবু বলেন, “আমরা কাউকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাধা দিই না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তো মোমবাতি নিয়ে বেড়িয়েছিলেন। এখন উনাদের দল দু-তিনটে ভাগ হয়ে গিয়েছে। আন্দোলন করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে লাঠালাঠি হলে সরকারের দোষ হবে। তাই সরকারকে সব ভেবে চিনতে করতে হচ্ছে।”

রাজ্যে শিল্প সম্ভবনা নিয়ে সুকান্তবাবু বলেন, “অনেক শিল্পপতি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি। এছাড়া শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গেও অনেক শিল্পপতি যোগাযোগ করেছেন। আগামী দিনে রাজ্যে অনেক শিল্প আসবে। আমরা চাই রাজ্যের ৭০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক নিজের বাড়িতে ফিরে এসে মা- বাবার কাছে থেকে কাজ করুক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *