সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২২ জানুয়ারি: জাতীয় নায়ক সুভাষ চন্দ্র বসুর স্মৃতি বিজড়িত পুরুলিয়া শহরের ‘নীলকণ্ঠ নিবাস’-এ আজও মর্যাদার সঙ্গে জন্ম দিন পালন হচ্ছে। আবক্ষ মূর্তির সামনে অনুষ্ঠান হচ্ছে। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে দুপুর ১২ টার পর জন্মক্ষণের মুহূর্তে ওই মহামানবকে স্মরণ করবে পুরুলিয়ার শহরের নামোপাড়ার নীলকণ্ঠ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার।

১৯৩৯ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি পুরুলিয়ায় আসেন তাঁর নব গঠিত ফরওয়ার্ড ব্লক দলের সাংগঠনিক শক্তির বিকাশ ও প্রসারের কাজে। পরাধীন ভারতবর্ষে তাঁর মতো নেতার সান্নিধ্যে থাকতে চেয়ে ছুটে এসেছিলেন অনেকেই। ওই সময় তখন পুরুলিয়া শহরের নামোপাড়ার বাসিন্দা প্রখ্যাত আইনজীবী এবং পুরুলিয়া পুরসভার প্রথম পুরপ্রধান নীলকণ্ঠ চট্টোপাধ্যায়ের বিশাল নাম ডাক ছিল। ওই দিন তাঁর বাড়িতেই পদার্পণ করেন পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্তির উপায় খোঁজা ব্যক্তিত্ব সুভাষ চন্দ্র বোস। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে সমাদরে বাড়িতে নিয়ে যান নীলকন্ঠ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর দুই ছেলে অর্ধেন্দু শেখর চট্টোপাধ্যায় এবং সুধাংশু ধর চট্টোপাধ্যায়। ছিলেন অর্ধেন্দু বাবুর বড় ছেলে কৈশোরে থাকা প্রণব চট্টোপাধ্যায়।

ওই পরিবারের এক সদস্য জানান, ‘নেতাজি’কে চাক্ষুস করতে পুরুলিয়া শহর ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে গণ্যমান্য ব্যক্তিত্বরা এবং তাঁর অনুগামী হাজির হয়েছিলেন তাঁদের বাড়ির সামনে। ওই দিন নেতাজির ভীষণ জ্বর ছিল। রাত্রি বাস করেছিলেন। সামান্য খাবার খেয়ে রওনা দিয়েছিলেন।
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো জগত্ খ্যাত বিশাল ব্যক্তিত্ব পদার্পণ করেছিলেন এই বাড়িতে। তাঁর জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানান। তাঁকে না দেখলেও তাঁর স্মৃতি বিজড়িত নানা ছবি বাড়ি, আসবাব আজ অমলিন হয়ে রয়েছে।

নেতাজির জন্ম শতবর্ষে বাড়ির অলিন্দে একটি আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করেছে চট্টোপাধ্যায় পরিবার। স্মৃতির সরণিতে বিশেষ দিনটিতে উপস্থিত হয়ে নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানান আপমর জনতা।রামচন্দ্রপুরে দাতব্য চক্ষু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছিলেন নেতাজি।আজ সেই সেই ফলক রয়েছে উজ্জ্বল হয়েই।

