হেমতাবাদে পার্সেল বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে উত্তরবঙ্গের আইজি

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২২ জানুয়ারি: পার্সেল বিস্ফোরণের জেরে শনিবার এলাকার ব্যবসায়ীরা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বনধ কর্মসূচি পালন করছেন। বাংলাদেশ সীমান্তে জেলার এই প্রান্তিক গ্রামে কিভাবে ঘটল এই ঘটনা পাশাপাশি কে বা কারা এর পেছনে রয়েছে তার জোড় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। আইইডি বিস্ফোরণ হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করছে তদন্তকারীরা। যদিও এবিষয়ে কিছু বলতে নারাজ তারা। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে এই ধরনের ঘটনায় স্বভাবতই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। জেলা পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দা বিভাগও।

উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদের বাহারাইল এলাকার এক ওষুধ ব্যবসায়ী বাবলু চৌধুরীর হাতে পার্সেল দিয়ে যায় এক টোটো চালক। পার্সেলটি খুলতেই বিস্ফোরণ ঘটে। বহুদূর পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে। গুরুতর জখম তিন জন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, পেশায় ওষুধ ব্যবসায়ী বাবলু চৌধুরীর নামে একটি পার্সেল টোটোতে করে নিয়ে আসে এক টোটো চালক। সেই সময় বাবলু ও সাথে আরো কয়েকজন তার দোকানের উল্টো দিকে রাস্তায় রোদ পোহাচ্ছিলেন। পার্সেলটিতে তার নাম ও ফোন নাম্বার লেখা ছিল বলে বাবলুবাবু পার্সেলটি নেন। সেটি দিয়েই চলে যায় ওই টোটো। আর পার্সেলটি খুলতেই বিস্ফোরণ ঘটে। আর সেই টোটো চালক কে বা কোথা থেকে এল তার এখনো কোনো হদিশ মেলেনি। যদিও এটা আইইডি বিস্ফোরণ বলে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান। পাশাপাশি এই বিস্ফোরণ পারিবারিক বিবাদের কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে অনুমান করলেও সীমান্ত এলাকার এই গ্রামে কিভাবে এই আইইডি বিস্ফোরণ ঘটলো তা নিয়ে যথেষ্টই প্রশ্ন উঠেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে এই ঘটনায় রীতিমত আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা৷ যারা এই কাজের সাথে যুক্ত তাদের উপযুক্ত শান্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি দোষীদের যতক্ষণ না গ্রেফতার করা হবে ততদিন এই এলাকায় কোনো দোকান বাজার খোলা হবে না বলে জানান তারা। আর এর পেছনে কোনো নাশকতার ছক থাকতে পারে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অপরদিকে সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার উচ্চ পদস্থ কর্তাদের পাশাপাশি রয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ ও বোম্ব স্কোয়ার্ডও। তবে এখনো সেই টোটো চালকের কোনো হদিশ মেলেনি। বিস্ফোরণের জায়গা পরিদর্শনে উত্তরবঙ্গের আইজি দেবেন্দ্র প্রকাশ সিং। সঙ্গে ছিলেন রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি অনুপ জয়সওয়াল, রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার সানা আখতার সহ অন্যান্য পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজি দেবেন্দ্র প্রকাশ সিং বলেন, আমরা সবদিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছি। শীঘ্রই অপরাধীরা ধরা পড়বে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *