আমাদের ভারত, ২৯ মে: ভোট মিটে গেলেও সংবাদ শিরোনামে রয়েছে কোচবিহারের শীতলকুচি। সেখানে ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজিকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মী রাধাকান্ত ত্রিপাঠীর আবেদনে সাড়া দিয়েই মানবাধিকার কমিশন রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চিঠি দিয়ে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিধানসভা ভোটের পর কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের মধ্যেই শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শীতলকুচি কান্ডের সময় ডিজি পদে ছিলেন না বীরেন্দ্র। বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন তাকে ডিজি পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শপথ নিয়েই বীরেন্দ্রকে ফিরিয়ে আনেন। কোচবিহারের শীতলকুচিতে ভোটগ্রহণের সময় মাথাভাঙ্গা ব্লকের জোরপাটকায় আমতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বুথে অশান্তির সময় সিআইএসএফ গুলি চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় ৪ জন নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েক জন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুর কারণ বুলেটের আঘাত।চতুর্থ জনের দেহে ক্ষতচিহ্ন মিললেও বুলেটের আঘাত মেলেনি। সেসময় তৃণমূল অভিযোগ করেছিল বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়েছে সিআইএসএফ। এরপর শীতলকুচি কান্ডের তদন্তে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে সিআইডিকে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে পৃথকভাবে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট স্তরে তদন্ত হয়। ঘটনার তদন্তে সিআইডি ইতিমধ্যেই কোচবিহারের তৎকালীন পুলিশ সুপার দেবাশীস ধর ও মাথাভাঙ্গা থানার আইসিকে জেরা করেছে। গুলি চালানোর ঘটনায় ছয়জন সিআইএসএফ জওয়ানকে জেরার জন্য তলব করা হলেও তারা আসেননি। অন্যদিকে কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা এপ্রিল মাসে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ চেয়ে জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার দ্বারস্থ হয়েছিল।

