আমাদের ভারত, ২৯ মে: কোচবিহারে ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার হওয়া শিশুদের পাশে দাঁড়ালো জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। কমিশনের তরফে কোচবিহারের এসপি এবং ডিএমকে চিঠি পাঠিয়ে ভোট-পরবর্তী হিংসার কারণে ঘর ছাড়া শিশুদের সার্বিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোট পরবর্তী হিংসার কারণে কোচবিহারের বহু মানুষ অসমের ধুবড়ি ও কাকরিঝোড় জেলার একাধিক শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এদের মধ্যে বহু শিশুও রয়েছে। কোচবিহারের ডিএম এবং এসপিকে চিঠি দিয়ে কমিশন এই শিশুদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলেছে। ভোট-পরবর্তী হিসার কারণে ভিটে মাটি ছাড়া হওয়া শিশুদের পুনর্বাসন সহ শিশুর পরিবারকে অন্তত ১ লক্ষ টাকা করে সাহায্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। রাজ্য সরকারকে এই পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এছাড়াও শিশুদের পাঠ্য বই, জামাকাপড়, বিছানাপত্র, বাড়ির অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। হিংসার কারণে মৃত্যু হওয়া শিশুদের পরিবারকে বিশেষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত ৪২টি শিশুর পক্ষে সুরক্ষা আইনের আওতায় তদন্ত শুরু করার কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে। কমিশনের এই নির্দেশ না মানলে জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টের আওতায় কোচবিহারের এসপি এবং ডিএমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
ধুবড়ি এবং কাকড়াঝোড় ডিএমের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪২ জন শিশু পশ্চিমবঙ্গ থেকে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে সেখানকার শিবিরে। কমিশন কোচবিহারের ডিএম এবং এসপির কাছে এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ তথ্য চেয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকরী করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
কিছুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টও রাজ্যে ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য সরকারের কাছে। এরপর জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনে এই চিঠি রাজ্যকে অস্ততি ফেলেছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
https://twitter.com/NisithPramanik/status/1397948364797349888?s=1006

