স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৭ মে: নবনির্মিত হাইড্রেন ভেঙ্গে উল্টে গেল লরি, কাটমানি নিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কোটি টাকার প্রকল্পের হাইড্রেন তৈরি করেছে জনপ্রতিনিধিরা দাবি এলাকাবাসীর। সঠিক নিয়মে কাজ হয়েছে পাল্টা দাবি পৌরসভার। ঘটনাটি নদিয়ার শান্তিপুর থানার আলুর মাঠ এলাকার।

জানাগেছে, ওই এলাকার দালাল পাড়া লেন সংলগ্ন রাস্তায় প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা একটি হাই ড্রেন তৈরি হয়েছে। শান্তিপুর পৌরসভার নিকাশি ব্যবস্থা বরাবরই খারাপ। সেই কারণেই সরকারের প্রকল্পে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে রাস্তার মাঝখান দিয়ে একটি হাইড্রেন তৈরি করা হয়েছে ওই এলাকায়। জানা যায় এদিন একটি বালি বোঝাই লরি আসছিল ওই রাস্তা দিয়ে। কিন্তু হাইড্রেন হঠাৎ ভেঙ্গে গিয়ে লরিটি উল্টে যায়। এলাকার মানুষের দাবি, যে সমস্ত ইঞ্জিনিয়াররা কন্ট্রাক্ট নিয়ে হাইড্রেন তৈরির কাজ করেছিলেন তারা দাবি করেছিলেন এই রাস্তা দিয়ে প্রায় ৮০ টনের গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। মাত্র একটি গাড়িতেই হাইড্রেন ভেঙ্গে গিয়ে উল্টে গেল গাড়ি। তাদের দাবি, দিন কয়েক আগে সম্পূর্ণ হয়েছে এই হাইড্রেনের কাজ, পুরনো হলে এর কি অবস্থা হবে? এর পাশাপাশি স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মূলত টাকার দুর্নীতি করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এই হাইড্রেনটি তৈরি করা হয়েছে। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা।
সিপিআইএম নেতা সৌমেন মাহাতো বলেন, শাসক দলের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত প্রতিটি নেতা দুর্নীতিগ্রস্ত।

যদিও তাদের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই ওই হাইড্রেনটি তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো দুর্নীতির সম্পর্ক নেই। তবে বালির গাড়িতে অতিরিক্ত ওজন হওয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ওভারলোড গাড়ি যে শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, সে বিষয়ে পৌরসভার ভূমিকাই বা কি?

