হাঁসখালি কাণ্ডে সিবিআই তদন্তে নয়া মোড়, একাধিক নমুনা সংগ্রহ তদন্তকারী দলের

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৫ এপ্রিল: হাঁসখালি কাণ্ডে সিবিআই তদন্তে নামার পর থেকেই তদন্তের দিশা পাল্টাতে শুরু করে দিয়েছে। এই কাণ্ডে নয়া মোড় শুরু হয়েছে। বুধবার রাত ১২টা নাগাদ প্রথম সিবিআই হাঁসখালি থানায় পৌছায়। সেখানে পৌঁছে পুলিশের কাছ থেকে এই কেসের সমস্ত তথ্য নেওয়ার পর, তারা তদন্তে নামে বলে জানাগেছে। পরের দিন সিবিআইয়ের টিম এক অভিযুক্তের বাড়ি পৌঁছায় তারপর স্মশানে পৌছায়।

তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তের বিছানার চাদরে বীর্যের নমুনা থেকে রক্তমাখা কাপড়ের টুকরো সংগ্রহ করে। এরপর তদন্তকারী দল শ্মশানে পৌছে যেখানে মেয়েটিকে দাহ করা হয়েছিল সেখানকার ছাই ঘেঁটে কয়েকটি হাড়ের টুকরো পেয়েছে বলে সুত্রের খবর। যদিও এই হাড়ের টুকরো ঐ নাবালিকার কি না তা জানা বাকি আছে।

এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত সোয়েল সহ বাকি অভিযুক্তদের জেরা করে জানাগেছে কোন ঘরে ধর্ষণ হয়েছে। সেখান থেকে একটি বিছানার চাদর সংগ্রহ করেছে তদন্তকারীরা। তা থেকেই বীর্যের নমুনা পাওয়া গেছে বলে জানাগেছে। এছাড়াও একটি রক্তমাখা কাপড়ের টুকরো পাওয়া গেছে। সেটি থেকে অনেককিছু জানা যাবে বলে অনুমান সকলের। এখন এটাই দেখার ঐ হারের টুকরো থেকে কি তথ্য পাওয়া যায়। আসলে এখনও জানা সম্ভব হয়নি ঐ রক্তমাখা কাপড়ে নির্যাতিতার রক্ত রয়েছে কি না।

এর পাশাপাশি আরেকটি মর্মান্তিক বিষয় হল হাঁসখালির ঐ নির্যাতিতার বাড়িতে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ঠিকমত হবে কি না তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়। কারণ কোনও ব্রাহ্মণ ও ক্ষৌরকর্মী ঐ বাড়িতে আসতে চাইছে না বলে অভিযোগ নির্যাতিতার পরিবারের। দাবি করা হচ্ছে, তারা কেউ আসতে চাইছে না কারণ তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরে এই ঘটনা জানাজানি হতেই সিপিআইএম দলের কয়েক যুবক ব্রাহ্মণ ও নাপিত নিয়ে গিয়ে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করায়।

এই হাঁসখালি কাণ্ডে প্রকাশ্যে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপ। তাতে দাবি করা হয়েছে, ব্রজগোপালের সাথে আরও অনেকেই ছিল এই কাণ্ডে। ঐ নাবালিকাকে নাকি ধর্ষণ করেছে ব্রজগোপালের পিসতুতো ভাই দীপঙ্কর। তবে ঐ অডিও ক্লিপের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে তদন্তকারীদের প্রভাবিত করতে পরিকল্পনামাফিক ঐ ক্লিপ তৈরি করা হয়েছে। এই অডিও ক্লিপে তিনজনের গলার আওয়াজ শোনা গিয়েছে। তাতে একজনকে বলতে শোনা গিয়েছে, “দীপঙ্কর আছে না ও গিয়েছিল? ও কাউকে বলেনি। আমাকে এসে বলেছে আমিও ছিলাম। তাড়াতাড়ি করে বেড়িয়ে যাই। তারপর ও ভিতরে যায়নি”। এরপর অন্য একটি কণ্ঠস্বর শোনা যায়। “এবার আমি বলেছি। দীপঙ্কর রাত সাড়ে ৮টার সময় মেয়েটিকে নিয়ে যায়। ওর সাথে আরও লোকজন ছিল। ও একা যায়নি। দেড়টার সময় চলে যায়। তারপর মা এসে নিয়ে যায়। এখন সব দোষ গিয়ে পড়েছে দাদার ঘাড়ে মা, ব্রজদা আমরা আতঙ্কে রয়েছি।”

এর সঙ্গে মূল অভিযুক্ত ব্রজ গোয়ালিকে মুক্ত করতে পরিকল্পনার কথাও শোনা যায় ঐ অডিও ক্লিপে। একটি কণ্ঠস্বর বলে ওঠে দাদুর যদি ১০ কোটি টাকা লাগে ছেলের জন্য সব দিতে তৈরি। জমি বেচে দেবে। ছেলেকে জেলে রাখবে না এমন লোক দাদু। ফিরে এসে ১০-১২টা মেশিন নিয়ে ঘুরবে। এই দাদু সমর গোয়ালি কি না তা জানা যায়নি ঐ অডিও ক্লিপে।

এদিকে নির্যাতিতার পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, মৃতার বাবার বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে কিশোরীর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এরপর শ্মশানে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছে মৃতার জ্যেঠতুত দাদা। প্রসঙ্গত, এই দাদা নাকি এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসাবে পরিচিত। যার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে আগে কেন এই অভিযোগ করা হয়নি। তাঁর প্রেক্ষিতে নির্যাতিতার দাদা বলেন,“এতো দিন আমরা খুব ভয়ে ছিলাম। তবে সিবিআই তদন্ত নিয়েছে জেনে এখন সাহস পাচ্ছি”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *