জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়নি তো হাঁসখালির নির্যাতিতাকে? প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল বিজেপির তথ্য অনুসন্ধান কমিটি

আমাদের ভারত, ১৫ এপ্রিল: হাঁসখালির নির্যাতিতাকে কি জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল? এই প্রশ্নই তুলে দিয়ে গেল বিজেপির তথ্য অনুসন্ধান কমিটি। আজ হাঁসখালিতে নির্যাতিতার বাড়িতে যান বিজেপির তথ্য অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন তামিলনাড়ুর বিধায়ক ভানাতি শ্রীনিবাসন, মহারাষ্ট্রের প্রতিনিধি খুসবু সুন্দর, উত্তরপ্রদেশের সাংসদ রেখা ভার্মা। নির্যাতিত নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিনিধি দল। এরপর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা যান নির্যাতিতার বাড়ির আধ কিলোমিটার দুরে থাকা শ্মশানেও।

আগেই জানা গেছে, শ্মশানে কাউকে না জানিয়ে ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়াই দাহ করে দেওয়া হয়েছিল নির্যাতিতার দেহ। প্রতিনিধি দলে থাকা বাংলার সদস্য বিজেপি বিধায়ক শ্রীরূপা চৌধুরী বলেন, ঘটনার রাতে যখন নির্যাতিতার মা মেয়েটাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছিল তখন তাদের বাড়ি ঘিরে রেখেছিল কয়েকজন। মা জানিয়েছেন আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারেনি। ওকে নিয়ে যাওয়ার মত পরিস্থিতি ছিলো না। বাইরের লোকেরা এসে মেয়েটাকে একটা বাঁশে বেঁধে কাপড়ে মুড়ে শ্মশানে নিয়ে যায়। কোনও ডাক্তার চিকিৎসক দেখেননি, কোনও সরকারি আধিকারিক দেখেননি, পুলিশও ছিল না”। এরপর ইংরেজবাজারের বিধায়ক বলেন, “আমাদের মনের মধ্যে সবথেকে বেশি যে বিষয়টা এসেছে সেটা হল মেয়েটি কি মারা গিয়েছিল? নাকি তাকে জীবন্ত অবস্থায় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল”?

এদিন সকাল থেকেই নির্যাতিতার বাড়ির সামনে ভিড় জমান গ্রামবাসীরা। ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও। হাঁসখালির ঘটনায় রাজ্য সরকার কি কি পদক্ষেপ করেছে? কত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে? কি নমুনা সংগ্রহ করতে পেরেছে তদন্তকারীরা? রিপোর্টে বিস্তারিত উল্লেখ করবে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি। মহারাষ্ট্রের প্রতিনিধি খুশবু সুন্দর বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে, সঠিক কারণ খুঁজে বার করতে হবে সবদিক দেখে রিপোর্ট আমরা জেপি নাড্ডার হাতে জমা দেবো।”

তিনি আরও বলেছেন, আমি রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে একবার অনুরোধ করবো যদি একটু সময় বের করে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে একবার কথা বলে নিতেন, তাহলে হয়তো অনেক কিছু জানতে পারতেন। আমরা তো অন্য রাজ্যের। আমরা সবাই নির্যাতিতার পরিবারের পাশে রয়েছি। এটা মুখ্যমন্ত্রী করতেই পারতেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *