Dark Web, Telegram, নয়া ডার্ক ওয়েব! নানা অপরাধমূলক কাজ হচ্ছে, অপরাধীর চিহ্নিতকরণ কঠিন, আদালতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করার কারণ জানাল কেন্দ্র

আমাদের ভারত, ১৮ জুন: নিটের প্রশ্ন ফাঁস এবং গুজব ঠেকাতে টেলিগ্রাম অ্যাপটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র। দিল্লি হাইকোর্টে এই নিষেধাজ্ঞা জারির কারণ জানিয়ে তারা টেলিগ্রামকে নতুন ডার্ক ওয়েব বলে দাবি করেছে। অভিযোগ, এই অ্যাপটি ব্যবহার করেই দিকে দিকে নানা রকম দুষ্কর্ম ও অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এই অ্যাপের নির্দিষ্ট বিশেষত্বের কারণেই এর মাধ্যমে হওয়া অপরাধীকে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে যায়। তাই নিটের প্রশ্ন ফাঁস আটকাতে টেলিগ্রামের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা দরকার।

গত ৩ মে নিট পরীক্ষা হয়েছিল। ১২ তারিখ কেন্দ্র জানায় নিটের প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে। তাই ওই পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করছে সরকার। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। আগামী ২১ জুন এই পরীক্ষার যাতে প্রশ্ন ফাঁস না হয়ে যায় তা নিশ্চিত করতে টেলিগ্রাম অ্যাপের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ। সরকারি সিদ্ধান্তকে তারা চ্যালেঞ্জ করেছিল।

দিল্লি হাইকোর্টে এ বিষয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল, বৃহস্পতিবার শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহেতা জানান সন্ত্রাসবাদ, সাইবার অপরাধ, মাদক পাচার, শিশু নিগ্রহ এবং আর্থিক জালিয়াতি, নানা ক্ষেত্রে টেলিগ্রামকে বর্তমানে ব্যাপকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। এই অ্যাপের এমন কিছু বিশেষত্ব রয়েছে যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

কেন্দ্রের আইনজীবী বলেন, একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪০টি বট তৈরি করা যায়। বটের সংখ্যা আরো বেশি বৃদ্ধি করা সম্ভব। রিপোর্ট বলছে টেলিগ্রাম এমন এক ধরনের বট পরিকল্পনা করছে, পরিকাঠামো রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রচুর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া যায়, এই বৈশিষ্ট্যটি অনন্য। ন্যূনতম তদারকিতে এটি জটিল এবং উন্নত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ করে দেয়। অপরাধীকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে টেলিগ্রামের সমস্যার কথা বলতে গিয়ে কেন্দ্রের আইনজীবী বলেন, এই প্ল্যাটফর্মটি ক্লাউডের মাধ্যমে চলে, ফলে অপরাধীর নাগাল পাওয়া কঠিন হয়।

কেন্দ্রের দাবি, টেলিগ্রামকে কাজে লাগিয়ে আইন- শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহজে এড়িয়ে যায় অপরাধীরা। এমন কিছু কিছু সন্ত্রাসবাদী সংগঠনও এই অ্যাপকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ কেন্দ্রের। বৃহস্পতিবার এই বক্তব্য শোনার পর মামলার রায় স্থগিত রেখেছে দিল্লি হাইকোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *