অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২২ ফেব্রুয়ারি: রাজ্যের ভয়াল অর্থনীতি নিয়ে ‘পদ্মশ্রী’ চিকিৎসক অরুণোদয় মন্ডল মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করলেন। তাঁর মন্তব্যে সাড়া পড়ল নেটানাগরিকদের।
অরুণোদয়বাবু ফেসবুকে লিখেছেন, “বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির শিকার। বামফ্রন্টের আমলের প্রথম অর্থমন্ত্রী ডঃ অশোক মিত্রকে সরিয়ে শিক্ষাবিদ ও এমআইটি’র অর্থনীতিবিদ ডঃ অসীম দাশগুপ্ত মহাশয়কে অর্থমন্ত্রী পদে বসান তৎকালীন বামফ্রন্ট মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবাবু। ডঃ অসীম দাশগুপ্ত মহাশয় জনসাধারণকে ধোকা দিয়ে একের পর এক ঘাটতি শূন্য বাজেট পেশ করেন। ৩৪ বছরের বাম শাসনে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার কোটি টাকা ধার পশ্চিমবঙ্গের জনগণের মাথায় চাপিয়ে অসীমবাবুরা বিদায় নেন। মা-মাটি-মানুষের জনদরদি সরকার ঠিক বামপন্থীদের প্রদর্শিত পথে জনহিতকর প্রকল্পের নামে একের পর এক লোন নিয়ে বর্তমানে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা ধার করে ফেলেছে। তৃতীয় দফার শাসনে ধার অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে কমবেশি ১২ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে মনে হয়।
মানুষকে ধোকা দিয়ে লক্ষ্মীর ভান্ডার, দুয়ারে সরকার, দুয়ারে রেশন, দুয়ারে পাঠশালা এসব প্রকল্প চালু করেছে। প্রশ্ন – দুয়ারের সরকার প্রকল্প যখন চলছে তাহলে এত খরচ করে ডিএম অফিস, এসডিও বা বিডিও অফিস রাখার কি দরকার। বরং গভঃ অন হুইল অর্থাৎ একটি টোটো গাড়িতে ডিএম, এসডিও, বিডিও বসে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঘুরে সরকারি কাজ করলে মানুষের আরও সুবিধা হবে। এই যে কমবেশি ১২ লক্ষ কোটি টাকা জনসাধারণকেই শোধ করতে হবে – পরোক্ষ করের মাধ্যমে। এটাই ধ্রুব সত্য। আগামী দিনে এই সরকারই থাকুক বা অন্য কোনো সরকার গঠিত হোক, তাদের কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। এই ধার শোধ করে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন অসম্ভব। এই সহজ সত্যটা অনুধাবন করার জন্য অর্থনীতিবিদ না হলেও চলবে – যে কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ সহজেই অনুমান করতে পারবেন। ধার করে সংসার চালানোর মধ্যে কোনো কৃতিত্বই নেই।
সমস্যা হবে ধার পরিশোধ করার সময়। মানুষের মুখ বন্ধ করার জন্য কোথাও ৫০০ টাকা, কোথাও হাজার টাকার ভিক্ষা ও নানান রকম মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। শিক্ষা ব্যবস্থা আজ পাড়ায় পাড়ায় পাঠশালাতে নেমে এসেছে। পরীক্ষা, পড়াশুনা সবই উঠে গেছে- স্বাস্থ্য বেহাল, অর্থনীতি, শিল্পনীতি সবই অস্তমিত- শিক্ষিত বেকারদের সামনে গভীর অমাবস্যা। জানি না কোন অতলে তলিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। শিক্ষা- স্বাস্থ্য- অর্থনীতির অবনতির জন্য বামফ্রন্টকে আজও মানুষ ক্ষমা করতে পারেনি। আগামী দিনে প্রগতিশীল মা মাটি মানুষের সরকারকেও মানুষ ক্ষমা করবে কিনা জানিনা।
কর্মসংস্থান বাড়ুক, মাথাপিছু রোজগার বাড়ুক, শিক্ষার মান বাড়ুক, প্রাপ্ত নম্বর ও পাশের হার বৃদ্ধি করে নয়, শিক্ষিত বেকারদের এসএসসি বা কলেজ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে মেধাভিত্তিক পদ্ধতিতে নিয়োগ হোক, স্বাস্থ্য জনমুখী হোক – সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত হোক ও সাধারণ মানুষের গ্রহণযোগ্য হোক, গ্রামের প্রান্তিক মানুষরা যাতে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা সহজে পেতে পারে তার ব্যবস্থা করা হোক, মন্ত্রী আমলাদের সুযোগ-সুবিধায় একটু রাশ টানা হোক। গণতন্ত্র- বাই দি পিপল, ফর দি পিপল অ্যান্ড অফ দি পিপল— সত্য প্রতিপন্ন হোক। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। আইএএস, আইপিএস ও সরকারি আধিকারিকদের কাছে প্রশ্ন- আগামী প্রজন্মের কাছে কী কৈফিয়ৎ দেবেন? এভাবেই কি আগামীদিনের পৃথিবীকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাচ্ছেন?”
লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার করে নেটিজেনদের অনেকে স্বাগত জানাচ্ছেন এই পর্যবেক্ষণকে।

