স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২২ এপ্রিল: মামার মৃত্যুর আগেই রান্না ঘরে গর্ত খুঁড়ে রেখেছিল ভাগ্নে। প্রতিবেশীরা জানতে পেরে ঘরের মধ্যে থেকে মামাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার রানাঘাট থানার কুপার্স ক্যাম্প এলাকার ৪নং ওয়ার্ডে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে অভিযুক্ত ঐ ভাগ্নের ঘর থেকে অচৈতন্য অবস্থায় মামা মন্টু শিকদার (৫৫) কে উদ্ধার করা হয়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসক।

শোওয়ার ঘরের পাশে রান্না ঘরে দেখা যায় মানুষ সমান গর্ত করে রাখা আছে। কিন্তু ঐ দিন রাতে ভাগ্নে বিপুল মণ্ডলকে পাওয়া যায়নি। পরের দিন সকালে পুলিশ গাংনাপুর থেকে বিপুল মণ্ডলকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মামা মন্টু শিকদার তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর পর ভাগ্নে বিপুল মণ্ডলের সাথে একই বাড়িতে একই সঙ্গে থাকতো। অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে মন্টু বাবুকে দেখা যাচ্ছিল না। এর পরই আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। গতকালই খোঁজাখুঁজি শুরু করে আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা। তখনই ভাগ্নের সাথে কথা বলতে গেলে তাঁর কথার মধ্যে নানান অসঙ্গতি লক্ষ করে সকলে। সেই সময় পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে ভাগ্নে বিপুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর সকলে ঘরে ঢুকে দেখে মন্টুবাবু অচৈতন্য অবস্থায় রান্না ঘরে পড়ে রয়েছে। পাশে এক মানুষ সমান গর্ত করা রয়েছে। এতেই প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের অনুমান তাকে মেরে ফেলে গর্তে চাপা দিয়ে রাখার জন্যই এই গর্ত করে রাখা হয়েছে। এর পর সকলে মন্টুবাবুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

স্থানীয় ও আত্মীয়দের দাবি, মামাকে মেরে মাটি চাপা দিয়ে দেহ লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল ভাগ্নে বিপুল। ভাগ্নের বিরুদ্ধে আত্মীয়দের অভিযোগ, “মামার সম্পত্তি ও টাকা হাতানোর উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনা করেছিল ভাগ্নে। অভিযুক্ত ভাগ্নের নাবালিকা মেয়ের অভিযোগ,
“কিছুদিন আগে দু’জন লোক এসে দাদুকে মিষ্টি খেতে দিয়েছিল। তার পর থেকেই দাদু অসুস্থ হয়ে পড়ে। দাদুকে ঠিকমত খেতে দিতো না। বাবাই রান্নার ঘরে কিছুদিন আগেই গর্ত করে রেখেছিল”।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, “অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কি উদ্দেশ্যে তাকে মারা হয়েছে ও কেন গর্ত করে রাখা হয়েছে তাঁর তদন্ত শুরু হয়েছে”।

