আত্মঘাতী একাদশ শ্রেণির ছাত্রী, পরিবারের পক্ষ থেকে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা,
২২ এপ্রিল: একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করল। গতকাল রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁ থানার মেদিয়া পাড়া এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আত্মঘাতী ওই ছাত্রী কালোপুর পাঁচপোতা হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। গতকাল রাতে পাড়ার বন্ধু ও দাদাদের সাথে সার্কাস দেখতে গেছিল ওই ছাত্রী। তারপর সেখান থেকে ফিরে বাড়ির পাশের এক দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে আনে এবং তার বাবাকে খেতে দিয়ে নিজের ঘরের দরজা আটকে দেয় ওই ছাত্রী। তারপর রাত এগারোটা নাগাদ ওই ছাত্রীর বাবা ঘুম থেকে উঠে দেখেন মেয়ের ঘরে আলো জ্বলছে, আলো নেভানোর জন্য ডাকাডাকি করলেও সাড়া না মেলায় সন্দেহ হয় তার। তারপর পাড়ার লোকজন ডেকে দরজা ভেঙ্গে দেখেন মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরিবার এবং স্থানীয়রা তাকে বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে।

বন্দনা মন্ডলের পিতা শম্ভু মন্ডল বলেন, “গতকাল রাতে আমার মেয়ে স্বাভাবিকভাবেই ঘরে ঘুমাতে গেছিল। কিন্তু রাত ১১ টা নাগাদ আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি মেয়ের ঘরে আলো জ্বলছে এবং তাকে ডাকাডাকি করা সত্ত্বেও দরজা না খোলায় দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে দেখি সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।”

পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত দশটা নাগাদ ওই ছাত্রীর সাথে তার কয়েকজন বন্ধুর ফোনের মাধ্যমে ঝগড়া হয়। তারপর থেকেই ওই ছাত্রী মানসিক দিক থেকে ভেঙে পড়ে। হয়তো বন্ধুদের সাথে ঝগড়ার চাপ সামলাতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে সে এমনটাই অভিযোগ তার পরিবারের।

এই বিষয়ে মৃত ছাত্রীর দিদি বলেন, “হয়তো আমার বোনের সাথে কারো সম্পর্ক ছিল, তাই পারিবারিক কোনো অশান্তি না থাকলেও সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে সে।”

পরিবারের পক্ষ থেকে বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে বন্দনা মন্ডলের ফোনে তার সাথে একটি ছেলের ছবি রয়েছে। এই ঘটনার পিছনে সেই ছেলেটি কোনো ভাবে জড়িত কি না সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *