সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৮ মার্চ: বাড়িতে বসেই মদ, গাঁজা ও হেরোইন বিক্রি করে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি। নিত্যদিনই বাড়ির উপরে মদ্যপদের অত্যাচার। বেআইনি ভাবে মদ গাঁজা বিক্রির প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়ে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার জোঁকা এলাকায়। আহত গৃহবধূ অপর্ণা সিংহ বনগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর মাথায় সাতটি সেলাই পড়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে বাড়িতে বসে মদ, গাঁজা ও হেরোইন বিক্রি করে সুভাষ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। এদিন রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ প্রতিবেশী অপর্ণাদেবী ঘটনার প্রতিবাদ করায় মদ্যপ অবস্থায় গৃহবধূ অপর্ণাকে দেখে কটুক্তি ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে। এরপর তাঁর স্বামী নবকুমার সিংহ প্রতিবাদ করতে গেলে লোহার রড দিয়ে তাকে আঘাত করে। অপর্ণা বাধা দিতে গেলে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি লোহার রড দিয়ে মারধর করে। লোহার রডের আঘাতে তার মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গৃহবধূর স্বামী নবকুমার সিংহ ৬ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ জানায়। নবকুমারবাবু বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে বাড়িতে বসেই মদ গাঁজা ও হেরোইন বিক্রি করে সুভাষ মণ্ডল। এমনকি, বাড়িতেও বাইরে থেকে লোকজন এনে মদের আসর বসায়। আর সেই মদ্যপদের অত্যাচার এসে পড়ে আমাদের বাড়ি। সব কিছু সহ্য করেই ছিলাম। এদিন সকালে আমার বৃদ্ধা মাকেও খুনের হুমকি দেয় সুভাষ। কিছু বললেই বলে পুলিশকে টাকা দিয়ে মদ বিক্রি করি। এদিন মদ্যপ অবস্থায় আমার স্ত্রীকে দেখে কটুক্তি ও অশালীন অঙ্গভঙ্গির করে। তার প্রতিবাদ করতে গেলে আমার স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি করে, মারধর করে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও মারধর করে।
তারপর এই ঘটনার তদন্তে নেমে রাতেই দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বনগাঁ থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দুই অভিযুক্ত হলেন সুভাষ মন্ডল ও গণেশ তরফদার। ধৃতদের সোমবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়।

