পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩ সেপ্টেম্বর: পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের নবীন উদ্যোগপতিদের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যেতে মেদিনীপুরে অনুষ্ঠিত হলো গুরুত্বপূর্ণ ‘জাতীয় এসসি- এসটি বিজনেস মিট’। ভারত সরকারের উদ্যোগে এবং বেঙ্গল চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার মেদিনীপুরের শহিদ ক্ষুদিরাম পরিকল্পনা ভবনে এই বিশেষ ব্যবসায়িক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জেলার আদিবাসী, তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগকারীদের কাছে এই বিজনেস মিট হয়ে ওঠে এক বলিষ্ঠ, তথ্যসমৃদ্ধ ও অনুপ্রেরণাদায়ক মঞ্চ। ব্যবসা শুরু করা থেকে শুরু করে ব্যবসার প্রসার, সরকারি সুযোগ- সুবিধা, ঋণ, লাইসেন্স, কর ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে সরাসরি বিশেষজ্ঞ ও আধিকারিকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পান উপস্থিত ব্যবসায়ী ও উদ্যোগপতিরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন এনএসআইসি লিমিটেডের জোনাল জেনারেল ম্যানেজার ড: অনুপম গায়েন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে উদ্যোগপতিদের উদ্দেশ্যে তাঁদের বক্তব্য রাখেন এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগ ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ীদের জন্য সরাসরি পরামর্শ ও পরিষেবা:–
বিজনেস মিটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক বিষয়ে সরাসরি পরামর্শ প্রদান। জেলার ব্যবসায়ী ও নবীন উদ্যোগপতিদের GST, Trade License, MSME, FSSAI, Trademark, বিভিন্ন Government Scheme এবং Bank Loan-সহ একাধিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া হয়।
ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে নতুন উদ্যোগপতিদের যে সমস্ত প্রশাসনিক জটিলতা ও তথ্যের অভাবের মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলি কীভাবে সহজে মোকাবিলা করা যায়, সেই বিষয়েও উপস্থিত আধিকারিকরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা কীভাবে পাওয়া যাবে এবং ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তার জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে, সে বিষয়েও উদ্যোগপতিদের সচেতন করা হয়।
ব্যবসায়িক উন্নয়ন ও নেটওয়ার্কিংয়ে বিশেষ গুরুত্বঃ–
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়িক উন্নয়ন, নেটওয়ার্কিং, ব্যবসায়ীদের অধিকার ও স্বার্থরক্ষা এবং উদ্যোক্তা বিকাশের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বস্ত, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা।
এই ধরনের বিজনেস মিটের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নবীন উদ্যোগপতিদের সঙ্গে সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সংস্থা এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার ও ব্যবসায়িক সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, আর্থিক সহায়তা, সরকারি প্রকল্প এবং অন্যান্য সম্পদের সঙ্গে তাঁদের সংযোগ আরও সহজ হবে।
নতুন উদ্যোগের স্বপ্নে নতুন আশার আলোঃ–
বিশেষ করে জেলার আদিবাসী ও তফসিলি জাতি-উপজাতি সম্প্রদায়ের নবীন উদ্যোগপতিদের জন্য এই সম্মেলন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন উপস্থিত ব্যবসায়ী ও অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের মতে, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা অনেক প্রতিভাবান যুবক-যুবতীর ব্যবসা করার আগ্রহ ও সম্ভাবনা থাকলেও সরকারি নিয়মকানুন, অর্থের সংস্থান, বাজার সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে তাঁরা অনেক সময় পিছিয়ে পড়েন। এ ধরনের উদ্যোগ সেই বাধা কাটিয়ে তাঁদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।
আয়োজকদের আশা, সরকারি সুযোগ- সুবিধা ও শিল্প-বাণিজ্য ক্ষেত্রের সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোগপতিদের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হলে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে নতুন শিল্প ও ব্যবসা গড়ে উঠবে। তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।
মেদিনীপুরের এই ‘জাতীয় এসসি- এসটি বিজনেস মিট’ তাই শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক সম্মেলন নয়, বরং জেলার নতুন প্রজন্মের উদ্যোগপতিদের স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সরকারি সহায়তা, শিল্পক্ষেত্রের সহযোগিতা এবং স্থানীয় উদ্যোগপতিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলার বার্তাই উঠে আসে এদিনের অনুষ্ঠান থেকে।

