Bus, Camera, Government, বাস কন্ডাক্টরদের শরীরে বসবে ক্যামেরা! কেন এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার?

আমাদের ভারত, ৩ সেপ্টেম্বর: বাংলার গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকরী পরিবর্তন করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে আরও মসৃণ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্প শুরু করা হচ্ছে। মূলত যাত্রীদের অভিযোগ দূর করতে ও সরকারি বাস পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনতে একাধিক অভিনব পদক্ষেপ করছে সরকার।

দুর্গাপুজো উৎসবের মরশুমে রাজ্যবাসীর জন্য এক ঝাঁক নতুন এসি, নন এসি বাস রাস্তায় নামানোর ঘোষণা করেছেন পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। কেবল তাই নয়, আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন রুটে প্রায় এক হাজার নতুন বাস নামানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে পরিবহন দপ্তর।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বাস পরিষেবায় নিত্যযাত্রীদের একটা বড় অংশের মধ্যে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষত ব্যস্ত সময় অনেক বাসস্ট্যান্ডে মহিলারা বা সাধারণ যাত্রীরা দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেক বাস না থেমেই চলে যাচ্ছে। এরফলে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই সমস্যা সমাধানে এবার প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। পরিবহন মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এখন থেকে ডিউটি চলাকালীন সমস্ত সরকারি বাসের কন্ডাক্টরদের শরীরে বা পোশাকে ছোট বড় বডি ক্যামেরা লাগিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হবে। এর ফলে কন্ডাক্টর ও চালকদের ওপর যেমন নজরদারি রাখা সহজ হবে, তেমন কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ধরা পড়লেও তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে।

যাত্রী সুবিধা নিশ্চিত করতে বাস চলাচলে যে কোনো জরুরি সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন পরিবহন নিগমের অধীনে থাকা এই কন্ট্রোল রুমগুলির নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে।

পরিবহন ব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে কেবলমাত্র রাজ্যে নয়, আন্তঃরাজ্য যোগাযোগে বড় চুক্তি করা হয়েছে। ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, বিহার ও সিকিমের মতো বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরাসরি বাস চলাচল করবে। এই বাস গুলির গায়ে পশ্চিমবঙ্গ নামটি। করা থাকবে, যা ভিন্ন রাজ্যে এই রাজ্যের পরিচিতি বাড়াতে সাহায্য করবে।

একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে রাজ্যের বেকার যুবকদের অত্যন্ত কম খরচে নতুন বাস পারমিট দেওয়া, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের অটো ও টোটো চালুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তা পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৪.৩৫ কোটি টাকার বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলায় বাঁধতে অ্যাপ ক্যাব গুলির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছে পরিবহন দপ্তর। ওলা, উবেরের মতো জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং এগ্রিকেটেড সংস্থাগুলিকে অবিলম্বে তাদের সমস্ত ক্যাবে কমার্শিয়াল নম্বর প্লেট লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য সংস্থাগুলিকে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রাম পরিষেবা ফিরিয়ে আনতে বেলারুস ও মেলবোর্নের মতো একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে সরকারের।
অর্থাৎ এই নতুন নতুন পরিকল্পনাগুলি যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থা এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *