আমাদের ভারত, ২৫ আগস্ট: বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেলেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী এবং রাজ্যসভা সদস্য নারায়ণ রাণে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে চড় মারার মন্তব্যের অভিযোগে মঙ্গলবার মহারাষ্ট্র পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
মঙ্গলবার রাত ৯.৪৫টা নাগাদ রায়গড় আদালত তাঁকে জামিন দেয়। পুলিশ আদালতে নারায়ণ রাণেকে ৭ দিনের হেফাজতে রাখার জন্য আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু বিচারক তা খারিজ করে দিয়ে ১৫ হাজার টাকার বন্ডে এই জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে বিচারক এসএস পাটিল নারায়ণ রাণের এই গ্রেপ্তারকে আইনসম্মত বলেন, তবে তার জন্য পুলিশি হেফাজতের কোনও প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন। ভবিষ্যতে মন্ত্রীকে এই ধরণের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন বিচারপতি। মামলার নথিপত্র লোপাট করা কিংবা মামলায় যুক্ত কোনও ব্যাক্তিকে ভয় দেখানো থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাছাড়াও আগামী ৩০ আগস্ট এবং ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে রায়গড় আদালত।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য দেশব্যাপী “জন আশীর্বাদ যাত্রা” কর্মসূচি পালন করছে বিজেপি। সোমবার সেই কর্মসূচির একটি সভায় নারায়ণ রাণে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের ১৫ আগস্টের ভাষণের কথা উল্লেখ করেন। দেশ কত তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে তা জানেন না মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী, দেশ কবে স্বাধীন হয় তা অন্যের কাছ থেকে তাঁকে জানতে হয়, এই বলে কটাক্ষ করেন। তিনি সে জায়গায় উপস্থিত থাকলে হয়ত মুখ্যমন্ত্রীকে কসিয়ে চড় মারতেন বলে মন্তব্য করেন বলে খবর।
তাঁর এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায় শিবসেনা কর্মী-সমর্থকরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিবসেনা-বিজেপির সংঘর্ষের বিচ্ছিন্ন ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি নারায়ণ রাণের বাসভবনের সামনেও সংঘর্ষ বাঁধে। যা সামাল দিতে রাজ্য পুলিশকে বল প্রয়োগ করতে হয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর জামিনের পর পরই উদ্ধব ঠাকরের ২০১৮ সালের একটি বক্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। উদ্ধবের সেই বিবৃতিতে তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চপ্পল দিয়ে প্রহার করার কথা বলেছেন। তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন অনেকে। যোগী আদিত্যনাথ ছাড়াও তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও এই ধরনের কটাক্ষ করেছেন যা সোস্যাল মিডিয়ায় রীতিমত ভাইরাল।
দাবি উঠেছে উদ্ধব ঠাকরের গ্রেপ্তারের। একই সঙ্গে বুধবার সকাল থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ক্লিপও ভাইরাল হতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিবসেনার পরিবহণ মন্ত্রী অনিল পরব পুলিশকে নারায়ণ রাণের গ্রেপ্তারিতে তৎপরতা গ্রহনের নির্দেশ দিচ্ছেন। এই ভিডিওকে ঘিরেও চলছে বিতর্ক। পরবের বিরুদ্ধে রত্নাগিরি থানায় এফআইআর-ও দায়ের করেছেন বিজেপি নেতারা। টুইটারে নারায়ণ রাণের ছেলে নীতেশ রাণে একাধিক টুইটের মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ক্রমাগত আক্রমণ হেনেছেন ঠাকরে সরকার ও তার দলের বিরুদ্ধে।

