আমাদের ভারত, বর্ধমান, ১ জুলাই :
বর্ধমানের কাঞ্চননগর এলাকায় দামোদর নদের বাঁধের ধারে আধপোড়া অবস্থায় এক যুবতীর মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওই যুবতীর পরিচয় জানা যায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায়, ডিএসপি হেডকোয়ার্টার সৌভিক পাত্র, এসডিপিও দক্ষিণ আমিনুল ইসলাম খান, বর্ধমান থানার আইসি পিন্টু সাহা। এছাড়া আসে খন্ডঘোষ থানার পুলিশও। স্থানীয়দের অনুমান ওই যুবতীকে ধর্ষণ করে খুন করার পর আগুনে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ধমানের কাঞ্চননগর বাঁধ সংলগ্ন কদমতলা এলাকার ফাঁকা জায়গায় এদিন এক যুবতীকে আধপোড়া অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পথচলতি মানুষজন। কাছে গিয়ে তারা দেখে এক যুবতীর গলায় ওড়নার ফাঁস দেওয়া আছে। শরীরে কোনও বস্ত্র নেই। দেহের বেশিরভাগ অংশই আগুনে পোড়া। ওই যুবতী স্থানীয় না হওয়ায় কেউ তাকে চিনতে পারেনি। তবে তাদের অনুমান ওই যুবতীকে কেউ বা কারা ধর্ষণ করে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করে। পরে এখানে ফেলে দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে।
স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ সন্ধে নামলেই বাঁধ লাগোয়া এলাকায় বাইরের ছেলে মেয়েরা ভিড় করতে শুরু করে। চলে মদ্যপান থেকে অসামাজিক কাজকর্ম। পুলিশের বিষয়টি দেখা উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা অসীম সোম বলেন, এদিন সকালে দোকান খুলতে যাওয়ার সময় খবর পাই এক যুবতীর পোড়া দেহ বাঁধের ধারে পড়ে আছে। গিয়ে দেখি তার গলায় ওড়নার ফাঁস দেওয়া আছে। শরীরের বেশির ভাগ অংশ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই যুবতী আমাদের এলাকার না হওয়ায় তার পরিচয় জানতে পারিনি। আমাদের অনুমান কেউ বা কারা তাকে খুন করে এই এলাকায় ফেলে পুড়িয়ে দিয়ে গেছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহরায় বলেন, কাঞ্চননগর এলাকায় একটা মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, তার পরিচয় জানা যায়নি। আমরা সেটা খতিয়ে দেখলাম। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। বেশ কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই প্রাথমিকভাবে ঘটনার কথা এখনই বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে এলেই বোঝা যাবে কি ঘটনা ঘটেছে।

