আর্থিক সহযোগিতা নয়, সরকারের থেকে স্বনির্ভরতার বিভিন্ন প্রকল্প আশা করেন নদিয়ার প্রতিবন্ধী শিল্পী

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১ ফেব্রুয়ারি: আর্থিক সহযোগিতা নয় সরকারের কাছ থেকে স্বনির্ভরতার বিভিন্ন প্রকল্প আশা করেন নদিয়ার প্রতিবন্ধী শিল্পী।

নদিয়ার তাহেরপুর থানার অন্তর্গত বিরনগর নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা সুজিত কুমার প্রামানিক। বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির টেক্সটাইল ডিজাইনার হিসেবে স্ক্রিন প্রিন্টিংয়ের কাজ করতেন। ২০০৭ সালে ব্রেইন স্ট্রোকে তার দেহের বাঁ অংশ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যায়। শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধকতার দুঃখ-দুর্দশা অনুভব করে ওই এলাকারই বিভিন্ন প্রতিবন্ধীদের নিয়ে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে পুরনো কাপড় দিয়ে পাপোশ শতরঞ্জি বুনন, ফেলে দেওয়া কাগজ থেকে অসাধারণ ভাস্কর্য নির্মাণের একটি ওয়ার্কসপ করেছেন বাড়িতেই।

স্থানীয়ভাবে জেলার বিভিন্ন সরকারি মেলা বা কুটির শিল্পের আয়োজনে তার প্রতিভা অন্বেষণ করেননি কেউ। তবে জাপানের একটি সংস্থা তার শিল্পকর্মের নিদর্শন দেখে ২০১৯ সালে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে রামায়ণের রামের জন্ম থেকে সীতার পাতাল প্রবেশ পর্যন্ত ঘটনাবলী ৮৩ টি খণ্ডচিত্রে তুলে ধরেছিলেন তিনি। বিভিন্ন গাছের ফুল ফল পাতার রস, উনুনের পোড়ামাটি, উনুনের কালী এমনকি গরুর মূত্র থেকে পর্যন্ত প্রস্তুত করেছেন রং। আর তাতেই প্রথম স্থান অধিকার করলেও পুরষ্কার বিতরণী বা তাকে সম্মানিত করা এবং আর্থিক সহযোগিতা স্থগিত থাকে করোনা পরিস্থিতির কারণে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই আশার আলো দেখছেন তিনি।

উপার্জন বলতে সামান্য কিছু চাষবাস এবং স্ত্রী কুটির শিল্পের মাধ্যমে বাড়িতে বসেই সামান্য কিছু উপার্জন করে থাকেন। একমাত্র সন্তান ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাঠরত। সংসারের শত দারিদ্রতার মধ্যেও হাল ছাড়েননি শিল্পের, হট শাড়ির ওপর এমব্রয়ডারি করার কারখানাগুলোতে এক ধরনের কাগজ ব্যবহৃত হয় প্রচুর পরিমাণে, যা ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হয়। আর তা দিয়েই তিনি অসাধারণ শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ হলে এবং বিভিন্ন মেলায় প্রদর্শনের সুযোগ পেলে বিশেষভাবে সক্ষমদের স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব। কারণ ব্যবহার্য সমস্ত জিনিস অতি সামান্য মূল্যের এবং সহজলভ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *