করোনার বিধি নিষেধ, কেঞ্জাকুড়ায় ম্লান মুড়ি মেলা

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৮ জানুয়ারি: করোনার বিধি- নিষেধের কারণে প্রাচীন মুড়ি মেলা কিছুটা ম্লান হলেও উপস্থিত মানুষ জন নদীর চরে দলবেঁধে মুড়ি খাওয়ার আনন্দ উপভোগ করেছেন পুরোমাত্রায়।

বাঁকুড়া সদর থানার কেঞ্জাকুড়া সঞ্জীবনী ঘাটের দ্বারকেশ্বর নদের বালির চরে শতাব্দী প্রাচীন মুড়ি মেলা এবার করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে তার ঐতিহ্যকে অনেকটাই ম্লান করে দিল। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সঞ্জীবনী মাতার আশ্রমে হরিনাম সংকীর্তন হলেও মঙ্গলবার দুপুরে নরনারায়ণ সেবা বন্ধ রাখেন উদোক্তারা। কুঞ্জভঙ্গ’র অনুষ্ঠানও সারা হল নিয়ম রক্ষার্থে। মেলায় আসা লোকজন কুঞ্জভঙ্গ শেষে হরিনাম সংকীর্তনের ধুলোটে অংশ নিয়ে যে উৎসবে মাতেন তা এবার হলো না দূরত্ব বিধি মানা সম্ভব হবে না বলে। মেলা কমিটিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাহবা জানানো হয়েছে।

তবে মুড়ি মেলায় প্রতি বছর যেভাবে জন সমাগমে রেকর্ড তৈরি করে এবার তা হলো না। তবুও দ্বারকেশ্বর নদের দুই পারের ৪০ – ৫০ খানা গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বালির চরে গামছা পেতে মুড়ি ঢেলে তারিয়ে তারিয়ে খেলেন, শীতের রোদে গা সেঁকে নিয়ে আনন্দ উপভোগ করে বাড়ি ফিরলেন। মুড়ি মেলা কবে থেকে হয়ে আসছে তা কেউ বলতে পারেন না।

কেঞ্জাকুড়া গ্রামের পঞ্চশোর্ধ ব্যক্তি দিলীপ কুমার চাঁদ বলেন, ২০০- ২৫০ বছর আগে থেকে এই মেলা চলে আসছে। বংশ পরম্পরায় সেকথা আমরা শুনে আসছি। তবে মুড়িকে কেন্দ্র করে আর কোথাও মেলা হয় কি না তা জানি না। সম্ভবত দেশের একমাত্র বাঁকুড়া জেলাই এই মেলার ঐতিহ্য রক্ষা করছে। দিলীপ বাবু বলেন, কিভাবে এই মেলার প্রচলন হয়েছে তার সঠিক কোনো প্রামাণ্য নথি না থাকলেও বংশ পরম্পরা অনুযায়ী শুনে আসছি, এই এলাকাটি ছিল জঙ্গলময়। জঙ্গলের মধ্যেই নদের তীরে সঞ্জীবনী মাতার মন্দির। সেখানে প্রতি বছর মাঘ মাসের ১ মাঘ থেকে ৩ মাঘ পর্যন্ত আশ্রম প্রাঙ্গণে হরিনাম সংকীর্তন হয়।মানুষ হরিনাম সংকীর্তন শুনতে আসতেন। সঙ্গে মুড়ি বেঁধে নিয়ে আসতেন। চারদিন ধরে মানুষ দ্বারকেশ্বর নদে বালিতে চুয়া কেটে পানীয় জল নিতেন। তাতে ভিজিয়ে মুড়ি খেতেন। সম্ভবত এ ভাবেই মেলা শুরু হয়।

৪ মাঘ কুঞ্জভঙ্গ’র দিন দ্বারকেশ্বর নদের চরে বসে ঐতিহ্যবাহী মুড়ি মেলা। মুড়ি খাওয়ার কত রকম উপকরণ আছে তা এই মেলায় এসে প্রত্যক্ষ করা যায়। মুলো, শশা, পিঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা, চপ, বেগুনি, পকোড়া, ছোলা ভিজে, ভাজা ছোলা, বাদাম, চানাচুর, বেগুন পোড়া, পাকা টমেটো, আলু সেদ্ধ ও পোড়া ইত্যাদি। এখন মেলায় আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা কোথাও মাইক নিয়ে পিকনিকের মজা নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *